আদালত প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাত্র ১০ টাকার চাঁদা না দেওয়ায় অটোরিকশাচালক মুমিনুল মিয়াকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অবশেষে দেড় মাস পর প্রধান আসামি শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় চাঁদাবাজির একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সাধারণ চালকদের জিম্মি করে রেখেছিল শাহিন—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ভোরে মেঘনা এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার শাহিন মিয়া সোনারগাঁ উপজেলার দড়িকান্দি এলাকার নসর আলমের ছেলে।
ঘটনার ভয়াবহতা ও নির্মমতা ইতোমধ্যেই এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
নিহত মুমিনুলের বড় ভাই মোবারক হোসেন বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে শাহিন মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চাঁদাবাজ চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল শাহিন। প্রতিদিন অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে জোরপূর্বক ১০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হতো। এই অবৈধ চাঁদাবাজি যেন হয়ে উঠেছিল ‘নিয়ম’—যেখানে না বলার কোনো সুযোগ ছিল না।
গত ১৭ মে বিকেলে মুমিনুল মিয়া তার অটোরিকশা নিয়ে বাসস্ট্যান্ডে গেলে শাহিন তার কাছে পুনরায় চাঁদা দাবি করে। মুমিনুল আগেই চাঁদা দেওয়ার কথা জানালে শুরু হয় তর্ক। একপর্যায়ে তা রূপ নেয় ভয়াবহ হামলায়। শাহিন ও তার সহযোগীরা মুমিনুলকে বেধড়ক মারধর করে। লাঠির আঘাতে মাথা ফেটে গুরুতর আহত হন তিনি।
গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
গত ২০ মে ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মাত্র ১০ টাকার জন্য একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই শাহিন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধরতে পুলিশের অভিযান চললেও অবশেষে শুক্রবার ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম সারোয়ার জানান, “চাঁদার দাবিতে অটোরিকশাচালক মুমিনুল মিয়াকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, শুধু গ্রেপ্তারেই শেষ নয়—এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নইলে এ ধরনের নৃশংসতা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।









Discussion about this post