স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হোসিয়ারি শ্রমিক আলমগীর হোসেন হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় প্রধান আসামি মোঃ সোহেবসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ অক্টোবর ২০২৫, শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বন্দর থানার সালেহনগরের বাড়ৈপাড়া এলাকায় পারভেজের অটোরিকশা গ্যারেজে একটি শালিস বৈঠক চলছিল। সেখানে পূর্ব বিরোধের জেরে হোসিয়ারি শ্রমিক আলমগীর হোসেনকে হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
নিহত আলমগীর হোসেন শাহী মসজিদ এলাকার মৃত সোহবান মিয়ার ছেলে।
তার পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় জুয়েলের দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল।
ওই বিরোধ মীমাংসার জন্য শালিস বসানো হলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা আলমগীরকে তার বাসা থেকে জোর করে শালিসে নিয়ে আসে।
এক পর্যায়ে টাকা ফেরত নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে জুয়েল ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর শুরু করে এবং গ্যারেজ থেকে রাস্তায় নিয়ে গিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়।
এসময় আসামিরা লাঠি, এসএস পাইপ ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলমগীরের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত তার বোন কল্পনা বেগম ও ভাতিজা মুন্না বাধা দিতে গেলে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত আলমগীরকে উদ্ধার করে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ৪ অক্টোবর শনিবার সকাল পৌনে ৮টায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের বোন কল্পনা বেগম বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
র্যাব-১১ জানায়, ঘটনার পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ জুলাই ২০২৬ রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার গোদনাইল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মোঃ সোহেব (৪২) এবং অপর আসামি মোঃ সুমন (৩৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।









Discussion about this post