ভিডিও ভাইরালের হুমকি দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণ, অভিযোগের পর পরিবারের উপর হামলা: আহত ৪
স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক প্রবাসীর স্ত্রীর গোপনে ধারণ করা গোসলের ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর ভুক্তভোগীর পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে চারজনকে আহত করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাত ৮টার দিকে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ডহর মারুয়াদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার মোছলেমের ছেলে ইলিয়াস (৩২) দীর্ঘদিন ধরে এক প্রবাসীর স্ত্রী (২৪)-কে অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছিল। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রায় এক বছর আগে সুযোগ বুঝে ওই গৃহবধূর গোসলের দৃশ্য গোপনে ধারণ করে। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে।
এরপর থেকে অভিযুক্ত ইলিয়াস নিয়মিত ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করে এবং বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা আদায় করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত বুধবার (২ জুলাই) দুপুরে ইলিয়াস ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করে পুনরায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে। ভুক্তভোগী এতে অস্বীকৃতি জানালে সে আরও টাকা দাবি করে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ইলিয়াস জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করে। উপস্থিত লোকজনের সামনে ইলিয়াস ভুক্তভোগীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তবে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসার পরই রাত ৮টার দিকে ইলিয়াস ও তার সহযোগীরা ভুক্তভোগীর পরিবারের ওপর হামলা চালায়। এতে ভুক্তভোগীর জা মুন্নি আক্তার (২৫), ভাসুর জহিরুল ইসলাম, চাচাতো ভাই রুবেল মিয়া ও ছোট ভাই সাকিল আহত হন।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি ঘটনাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
তবে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
এদিকে অভিযোগ দায়েরের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মামলা রেকর্ড না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। ভুক্তভোগীর ভাসুর জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “আমরা বিচার চাইতে গিয়ে এখন উল্টো হামলার শিকার হচ্ছি। অভিযুক্তরা আবার আমাদের বিরুদ্ধেই মামলা দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।









Discussion about this post