সিদ্ধিরগঞ্জে বিকৃত জাতীয় পতাকা বাণিজ্য: অনলাইনে ‘কালেমা খচিত’ ডিজাইন বিক্রি, গ্রেপ্তার ২
নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় পতাকার রঙ ও নকশা বিকৃত করে তাতে আরবি অক্ষরে কালেমা সংযুক্ত করে অনলাইনে বিক্রির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের সীমা ও সচেতনতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের মিতালী মার্কেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরদিন শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বাসিন্দা মো. নিয়ামক উল্লাহ (২৫) এবং শেরপুর সদর উপজেলার সিদ্দিক (২৬)। তারা দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিযুক্তরা জাতীয় পতাকার আদলে সবুজ-লাল রঙ ব্যবহার করে তাতে আরবি হরফে কালেমা যুক্ত করে বিশেষ ধরনের পতাকা তৈরি করছিলেন। এসব পতাকা একটি অনলাইন পেজের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছিল। সম্প্রতি সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ওই পতাকা উড়তে দেখা গেলে বিষয়টি নজরে আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বিষয়টিকে ধর্মীয় আবেগের সঙ্গে যুক্ত করলেও অনেকেই এটিকে জাতীয় পতাকার অবমাননা হিসেবে দেখছেন। ফলে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, “জাতীয় পতাকার অবয়ব পরিবর্তন করে ভিন্ন বার্তা সংযোজন করা আইনত দণ্ডনীয় হতে পারে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। তাদের এই কর্মকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সংগঠিত চক্র জড়িত আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় প্রতীক ব্যবহারে আইন ও নীতিমালা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় এমন ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে, যা সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।









Discussion about this post