শিক্ষার আড়ালে প্রতারণার সাম্রাজ্য : ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ, তবুও থামছে না ‘বাহার’ সিন্ডিকেট
নিজস্ব প্রতিবেদক :
শিক্ষার নামে প্রতারণার এক ভয়ংকর চিত্র সামনে এসেছে নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানীকেন্দ্রিক একটি চক্রকে ঘিরে।
ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্কসের স্বত্বাধিকারী মো. খায়রুল বাশার বাহার—যিনি নিজেকে শিক্ষাবিদ হিসেবে পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন—তার প্রায় ৩৩ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দ করেছে সিআইডি।
রোববার (১২ জুলাই) সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উন্নত দেশে স্বল্প খরচে দ্রুত উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এই চক্র শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে গড়ে তোলা হয় একটি সুসংগঠিত প্রতারণার নেটওয়ার্ক।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, এই প্রতারণা থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বহুতল ভবন কিনেছেন খায়রুল বাশার বাহার। বড় স্ত্রীর নামে ভাটারায় ফ্ল্যাট, দ্বিতীয় স্ত্রীর নামে শেলটেক প্রকল্পে ফ্ল্যাট, নিজের নামে রাজাবাজারে দুটি ফ্ল্যাটসহ আজিজ সড়কে বহুতল ভবন—সব মিলিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ সম্পদের পাহাড়।
এ ঘটনায় মানিলন্ডারিং আইনে মামলা দায়েরের পর ২০২৫ সালের ১৪ জুলাই ধানমন্ডি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। পরে আদালতের নির্দেশে তার সম্পদ ক্রোক করা হয়।
তবে এখানেই শেষ নয়—তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে তার আরও বিপুল সম্পদের সন্ধান চলছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এত বড় প্রতারণার অভিযোগ ও সম্পদ জব্দের পরও তার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং নারায়ণগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণের বিপরীতে ঢাকার আদলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে প্রতারণার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভেতরে একটি অসাধু চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় এই প্রতারক দীর্ঘদিন ধরে পার পেয়ে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের কিছু প্রভাবশালী মহলের নীরব সমর্থনেই গড়ে উঠেছে এই প্রতারণার সাম্রাজ্য।
প্রশ্ন উঠছে—একজন কথিত ‘স্বশিক্ষিত শিক্ষাবিদ’ কীভাবে বছরের পর বছর ধরে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়, অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো নির্বিকার থাকে ? কারা ছিল এই প্রতারণার নেপথ্যের শক্তি ? কেন এতদিনেও বন্ধ করা যায়নি এই ভুয়া শিক্ষাবাণিজ্য ?
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—শুধু সম্পদ জব্দ বা গ্রেপ্তার নয়, এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তি ও পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় শিক্ষার নামে এমন প্রতারণা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।









Discussion about this post