ফতুল্লায় ‘তেলতেলে’ সিন্ডিকেট—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনে চলছে কোটি টাকার চোরাই তেলের কারবার
নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চোরাই জ্বালানি তেলের রমরমা ব্যবসা চলে আসছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে।
অভিযোগের তীর শুধু চোরাকারবারিদের দিকেই নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রভাবশালী মহল এবং কিছু অসাধু রাজনীতিবিদের দিকেও।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ম্যানেজ’ সংস্কৃতির ওপর ভর করেই গড়ে উঠেছে এই অবৈধ ব্যবসার শক্ত ভিত।
চোরাকারবারিদের দাবি, নিয়মিত ঘুষ (তাদের ভাষায় ‘তেলবাজি’) দিয়েই নির্বিঘ্নে চালানো হচ্ছে এই চোরাই তেলের কারবার।
ফলে বছরের পর বছর ধরে প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলেও দৃশ্যত কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি।
ফতুল্লার যমুনা ও মেঘনা ডিপোর আশপাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য চোরাই তেলের দোকান।
অভিযোগ রয়েছে, এসব দোকান থেকে বিভিন্ন সংস্থার নাম ভাঙিয়ে মাসিক চাঁদা (হাফতা) আদায় করা হয়।
এমনকি র্যাব, ডিবি, পুলিশ ও সাংবাদিকদের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও নাকি ঘটছে নিয়মিত।
এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে রয়েছেন মিলন নামের এক চিহ্নিত তেলচোর—এমন অভিযোগও উঠেছে। জানা যায়, জ্বালানি তেলের সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রথম ধাপ থেকেই শুরু হয় চুরি।
ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময় পরিমাণে কম দেওয়া, পথে তেল সরিয়ে ফেলা, এমনকি নৌপথে জাহাজের গোপন খোপ ব্যবহার করে তেল লোপাট—সব ক্ষেত্রেই সক্রিয় এই চক্র।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে মাসোয়ারা দিয়ে এই সিন্ডিকেট নিজেদের প্রভাব অটুট রেখেছে। ফলে কোটি কোটি টাকার তেল চুরি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, “পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিন। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
তিনি আরও দাবি করেন, চোরাই তেল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং একটি তালিকা প্রস্তুত করে তাদের আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।
অন্যদিকে, যমুনা ও মেঘনা অয়েল কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টিকে আংশিক স্বীকার করে বলেন, “বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। তবে মিলনের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ এসেছে, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে প্রশ্ন থেকে যায়—যেখানে প্রতিদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখের সামনেই চলছে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম, সেখানে কেন এতদিনেও দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? স্থানীয়দের মতে, এই ‘তেলতেলে সম্পর্ক’ না ভাঙলে ফতুল্লায় চোরাই তেলের মহোৎসব থামানো সম্ভব নয়।
এখন সময় এসেছে দায়সারা বক্তব্য নয়, দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপের—নইলে অপরাধের এই চক্র আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে, আর আইনের শাসন পরিণত হবে কাগুজে কথায়।









Discussion about this post