🔴 দুদকের অভিযানে জব্দ ‘জয়িতা’: জিয়াউল আহসানের সম্পদের হিসাব চূড়ান্তের পথে
স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের ‘জয়িতা’ নামের আটতলা বাড়িতে দিনব্যাপী অভিযান শেষে মালামাল জব্দ ও তালিকা প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আদালতের নির্দেশে পরিচালিত এই অভিযানে উঠে এসেছে বিতর্কিত সম্পদ সঞ্চয়ের আরও স্পষ্ট চিত্র।
সোমবার (২০ জুলাই) জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ১২ নম্বর সেক্টরের একটি প্লটে অবস্থিত ভবনটিতে দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল তল্লাশি চালায়।
অভিযানে ভবনের বিভিন্ন কক্ষে থাকা আসবাব, ইলেকট্রনিকসসহ মূল্যবান সামগ্রী জব্দ করা হয় এবং সেগুলোর বিস্তারিত তালিকা প্রস্তুত করা হয়।
দুদক জানায়, ক্রোক করা সম্পদের সঠিক হিসাব সংরক্ষণ এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘জয়িতা’ ভবনটি আদালতের আদেশে আগেই ক্রোকভুক্ত করা হয়েছিল। সেই আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই ইনভেন্টরি কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি ভবনটির একটি ফ্ল্যাট প্রশাসন সিলগালা করে, যা অবৈধ সম্পদের প্রাথমিক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কেবল বিচ্ছিন্ন নয়; বরং এটি দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম এবং সন্দেহজনক লেনদেনের ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরে।
দুদকের দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, তিনি নিজ নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন এবং স্ত্রী নুসরাত জাহানের মাধ্যমে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন সম্পন্ন করেছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করে নিজের ব্যাংক হিসাবে ডলার জমা, একাধিক ব্যাংক হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থপাচারের প্রমাণ মিলেছে।
এসব কর্মকাণ্ড দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনসহ একাধিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযান কেবল একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতির জাল উন্মোচনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
একজন উচ্চপদস্থ সাবেক সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও জনআস্থার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ জানুয়ারি জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানো হয় এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো এখন বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জব্দ করা সম্পদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও বিশ্লেষণ শেষ হলে এই মামলার তদন্ত আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।
দুদকের এই অভিযান স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত আইনের জালে ধরা পড়তেই হবে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ পর্যন্ত কতটা কঠোর ও কার্যকর অবস্থান নিতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।









Discussion about this post