বিআরটিসি চেয়ারম্যান পদ নিয়ে তদবির : নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর চেয়ারম্যান পদকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে একটি নিয়োগ তদবিরের বিষয়।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে ঘিরে এই আলোচনা এখন দলীয় অঙ্গন ছাড়িয়ে নগরজুড়ে আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিআরটিসির চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেতে টিপুর পক্ষে উচ্চপর্যায়ে তদবির চলছে।
এ লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে একটি ডিও (ডিমান্ড অর্ডার) লেটার ইস্যু করে তাকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকার বিভিন্ন সংস্থা, বোর্ড ও করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় নেতাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই এ ধরনের তদবির বেড়েছে। গত ২৪ জুলাই ১২ জন নেতাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়ার পর বিষয়টি আরও দৃশ্যমান হয়।
এর পরপরই সম্ভাব্য পদ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয় এবং সেই প্রেক্ষাপটেই বিআরটিসির চেয়ারম্যান পদটিকে কেন্দ্র করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে এ নিয়োগ সম্ভাবনাকে ঘিরে দলীয় ভেতরেই মতবিরোধ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একাংশের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক ইমেজকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। অন্যদিকে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতাদের এমন পদে বসানো হলে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
টিপুকে ঘিরে নানা বিতর্কও আলোচনায় উঠে এসেছে।
অতীতে তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন, দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন, এবং বিভিন্ন সময়ে আচরণগত সমালোচনা—এসব বিষয় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ভিন্নমত সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাষা ব্যবহার, সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ এবং পেশাজীবীদের সঙ্গে সংঘাতের অভিযোগ তাকে ঘিরে নেতিবাচক আলোচনাকে জোরদার করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
তৃণমূল বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “দল এখন একটি সংবেদনশীল সময় পার করছে। এ সময়ে দায়িত্বশীল, গ্রহণযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা জরুরি। বিতর্কিত কাউকে দায়িত্ব দিলে তা দলের জন্য উল্টো চাপ তৈরি করতে পারে।”
অন্যদিকে, টিপুর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা হতে পারে। তারা মনে করেন, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা এবং আইনি পেশায় অভিজ্ঞতার কারণে তিনি এমন একটি দায়িত্ব পালনে সক্ষম।
এদিকে, বিআরটিসির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে কে আসছেন—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা ও সেবার মান উন্নয়নে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, একটি সম্ভাব্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তা শুধু ব্যক্তি নয়—দলীয় নীতিনির্ধারণ, যোগ্যতা মূল্যায়ন এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রশ্নকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেয় এবং তা দলীয় ও জনমনে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।









Discussion about this post