নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় চাঞ্চল্যকর ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের পর অভিযুক্ত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হামিদ খানকে ক্লোজ (পুলিশ লাইনে সংযুক্ত) করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দিবাগত (৫ আগষ্ট) মধ্যরাতে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সির নির্দেশে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর জেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, রোববার (২ আগস্ট) রাতে কাশিপুর এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হক ডালিম চৌধুরীকে ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ উল্লেখ করে আটক করা হয়। পরে তাকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে প্রথমে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং দর-কষাকষির একপর্যায়ে তা আড়াই লাখ টাকায় নির্ধারিত হয়।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—এই লেনদেন থানার ভেতরেই, একটি টয়লেটের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের টয়লেটে নিয়ে সেখানে টাকা গুনে নেওয়ার পর আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এমনকি মুক্তির শর্ত হিসেবে তাকে এক মাস বাড়িতে না থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পরদিন বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় এক ছাত্রনেতার হস্তক্ষেপে পুলিশের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত এএসআই ডালিমের পরিবারের কাছে নেওয়া আড়াই লাখ টাকা ফেরত দেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই আব্দুল হামিদ খান তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা হিসেবে এএসআইকে ক্লোজ করা হলেও, এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে থানার অভ্যন্তরে এ ধরনের লেনদেন কীভাবে সংঘটিত হলো এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না—তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।
সচেতন মহলের মতে, শুধুমাত্র ক্লোজ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এমন ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনআস্থাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এদিকে পুলিশ সুপারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।









Discussion about this post