বহিষ্কৃত নেতাকে ‘রাজনৈতিক সচিব’ বানালেন এমপি মান্নান: বিএনপিতে প্রশ্নের ঝড়
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ :
দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত এক নেতাকে সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বহিষ্কৃত খাইরুল ইসলাম সজিবকে নিজের ‘রাজনৈতিক সচিব’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান।
রোববার (৯ আগস্ট) স্বাক্ষরিত একটি নিয়োগপত্রের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। নিয়োগপত্রের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, র্যাব-১১, বিজিবি এবং উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে—যা বিষয়টিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।
নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সজিব নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং সংসদ সদস্যকে সহযোগিতা করবেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে—দল থেকে বহিষ্কৃত এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে আটক হওয়া একজন ব্যক্তি কীভাবে এমন দায়িত্ব পান ?
খাইরুল ইসলাম সজিব একসময় জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং পরে যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। কিন্তু গত ২১ জুন রাজধানী থেকে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়।
চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী।
যদিও পরে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তার আগেই যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এমন একজন বিতর্কিত ও বহিষ্কৃত ব্যক্তিকে সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পদে বসানো বিএনপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা এবং নৈতিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “দল থেকে বহিষ্কার মানে শুধু সাংগঠনিক পদ হারানো নয়, বরং একটি স্পষ্ট বার্তা—দল ওই ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় নিতে চায় না। সেখানে একই ব্যক্তিকে সংসদ সদস্যের ‘রাজনৈতিক সচিব’ করা হলে তা দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা বলেই মনে হবে।”
এ ঘটনায় দলীয় হাইকমান্ডের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দলের ভাবমূর্তি এবং শৃঙ্খলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগেও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম তার ছেলে আবুল কাউসার আশাকে রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। ফলে ‘পরিবারতন্ত্র’ ও ‘দলীয় শৃঙ্খলা উপেক্ষা’—দুই ইস্যুই আবারও সামনে চলে এসেছে।









Discussion about this post