নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি, মাদক ব্যবসা ও নানা ধরনের অপরাধে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।
এমনকি অপরাধীদের হামলায় খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আহত হওয়া এবং সরকারি অস্ত্র লুটের মতো ঘটনাও ঘটেছে জেলায়।
এমন চরম অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার নানা প্রশ্নের মধ্যেই এবার নারায়ণগঞ্জ জেলার সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
একই সঙ্গে তিনি গাজীপুর জেলার দায়িত্বও পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে দেশের ৬৪ জেলার দায়িত্ব ৩০ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপের মধ্যে বণ্টন করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি প্রজ্ঞাপনে সই করেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার ক্ষমতা খর্ব না করে সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করবেন।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেলায় একের পর এক হত্যা, সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাত, ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার ও অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়েও রয়েছে ব্যাপক অভিযোগ।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহতার চিত্র ফুটে উঠেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাতেও। অপরাধীদের হামলায় পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে আহত করার পাশাপাশি সরকারি আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও দেখা দিয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
এমন পরিস্থিতিতে নবনিযুক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদের কার্যপরিধিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং গুরুতর অপরাধ দমন। জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখতে তিনি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জন্য সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্বও তাদের দেওয়া হয়েছে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নসহ জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সমন্বয় ও পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবেন হাবিবুর রশিদ। প্রয়োজনে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সরকারি সভায় অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ দিতে পারবেন।
তবে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও হুইপদের এ তদারকি ও সমন্বয়মূলক ভূমিকার কারণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সাংবিধানিক ও আইনগত সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব হবে না।
এদিকে নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা, শুধু সভা-সেমিনার বা প্রশাসনিক সমন্বয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে জেলার নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী। হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
অপরাধ ও অরাজকতায় বারবার আলোচিত নারায়ণগঞ্জে নতুন এই দায়িত্ব বণ্টনের পর এখন দেখার বিষয়—প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদের তদারকি ও সমন্বয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সত্যিই কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন আসে কি না।









Discussion about this post