রূপগঞ্জে সিটি গ্রুপের অটোরাইস মিলে বয়লার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ২ শ্রমিক
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সিটি গ্রুপের একটি অটোরাইস মিলের বয়লার বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে উপজেলার তারাবো পৌরসভার গন্ধর্বপুর তালতলা এলাকায় অবস্থিত সিটি ইকোনমিক জোনের টকটি অটোরাইস মিলে এ ঘটনা ঘটে।
দগ্ধ শ্রমিকরা হলেন—তালতলা এলাকার আমির হোসেনের ছেলে সাব্বির মিয়া (২৫) এবং হামিদ প্রধানের ছেলে মোজাম্মেল হক (৪৫)। বিস্ফোরণের পর আগুনে তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় সিটি ইকোনমিক জোনের অটোরাইস মিলে স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চলছিল। সকাল দিকে হঠাৎ মিলের বয়লারে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়লে সেখানে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। এ সময় দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সাব্বির মিয়া ও মোজাম্মেল হক আগুনে দগ্ধ হন।
দগ্ধ মোজাম্মেল হকের স্ত্রী আমেনা বেগম জানান, বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি বলেন, তার স্বামীর শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশ ঝলসে গেছে। একইভাবে সাব্বির মিয়ার শরীরেরও বিভিন্ন অংশ গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় শ্রমিকদের দাবি, বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় মিলটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কী কারণে বয়লার বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বয়লারটির কারিগরি ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ঘাটতি নাকি অন্য কোনো কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে—সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ছাড়া তা স্পষ্ট নয়।
ঘটনার বিষয়ে সিটি গ্রুপ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত দগ্ধ শ্রমিকদের পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কারও পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, শিল্পকারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বয়লারসহ ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।









Discussion about this post