ফতুল্লায় শুভ্র হত্যা মামলায় ৭ আসামির যাবজ্জীবন
আদালত প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সাখাওয়াত হোসেন শুভ্র (৩২) হত্যা মামলায় সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—বাবুল সাহা জীবন (৩৩), নাজমুল ইসলাম (২৮), সঞ্জয় দাস ওরফে মনা (৩০), মিলন (৩২), বশির (৩১), সমীর (৩০) ও কাওছার (৩৪)। রায় ঘোষণার সময় পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাবুল সাহা জীবন ও কাওছার পলাতক রয়েছেন।
নির্মাণাধীন ভবনের সপ্তম তলায় ডেকে নিয়ে হত্যা
মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৫ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে ফতুল্লা থানার মাসদাইর এলাকার আদর্শ স্কুলের উত্তর পাশে ‘মায়ের আঁচল’ নামে একটি নির্মাণাধীন ১২ তলা ভবনের সপ্তম তলায় শুভ্রকে ডেকে নিয়ে যায় আসামিরা।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে শুভ্রকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথার পেছনে ও থুতনির নিচে আঘাত করা হয়। পরে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে থানায় মামলা করেন।
শুভ্রর বাবা মো. শাহাদাত হোসেন শিকদার (৫৪) বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০২০ সালে অভিযোগপত্র
মামলাটি তদন্তের পর পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ফতুল্লা থানার তদন্ত কর্মকর্তা ২০২০ সালের ২৪ মার্চ অভিযোগপত্র নম্বর-২৪৩ আদালতে জমা দেন।
অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১, ৩৭৯, ৪১১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
এরপর মামলাটি দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার অন্যান্য নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।
আদালতের রায়ে শাস্তি
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার পর নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, শুভ্র হত্যা মামলায় আদালত সাত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। রায় ঘোষণার সময় পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর দুই আসামি পলাতক ছিলেন।
প্রায় নয় বছর আগে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে মামলাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। তবে পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।









Discussion about this post