শামীম ওসমানের ছোড়া গুলি পায়ে লাগে, খানপুরে চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই যোদ্ধা কাউসারের জবানবন্দি
আদালত প্রতিবেদক :
জুলাই আন্দোলনে নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ কাউসার আহমেদ।
জবানবন্দিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের সময় শামীম ওসমানদের ছোড়া গুলি তার বাঁ পায়ে লাগে।
পরে তাকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য দেন কাউসার আহমেদ।
তিনি গেজেটভুক্ত ‘গ’ শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধা এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
জবানবন্দিতে কাউসার বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে তিনি নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন। দুপুর পৌনে ২টার দিকে চাষাড়া মোড়ে শামীম ওসমানের বাড়ির সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের এই সাক্ষীর দাবি, হামলায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি অংশ নেন। তাদের মধ্যে শামীম ওসমান, অয়ন ওসমান, আজমেরী ওসমান, টিটু, শাহ নিজাম, ফাইজুল, নিয়াজুল, টিপু, দিপু ও সাইদের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
তাদের হাতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ছিল বলেও জবানবন্দিতে দাবি করেন কাউসার।
তিনি বলেন, হামলার সময় ছোড়া একটি গুলি তার বাঁ পায়ে লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। পরে কে বা কারা তাকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে তাকে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
কাউসারের আরও অভিযোগ, শামীম ওসমান চিকিৎসকদের তাকে চিকিৎসা না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে জবানবন্দিতে কোনো লিখিত নির্দেশ বা অন্য কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা আদালতের কার্যক্রম থেকেই নির্ধারিত হবে।
সাক্ষী জানান, পরে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ৮ আগস্ট অস্ত্রোপচার করে তার পা থেকে গুলি বের করা হয়।
‘সুজন নামে একজন নিহত হন’
৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে আরও অনেকে হতাহত হন বলেও জবানবন্দিতে দাবি করেন কাউসার। তার ভাষ্য, ওই দিন সুজন নামে একজন নিহত হন। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকায়।
কাউসার অভিযোগ করেন, শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জে ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার নেতৃত্বে সশস্ত্র ব্যক্তিরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালান। এসব ঘটনায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
নিজের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা এবং আন্দোলনকারীদের হতাহত করার অভিযোগে মামলার আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন রাষ্ট্রপক্ষের এই সাক্ষী।
মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ১২ আসামিই পলাতক রয়েছেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
তবে জবানবন্দিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রমাণের বিষয়টি বিচারাধীন। রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য, আসামিপক্ষের বক্তব্য ও আদালতে উপস্থাপিত অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।









Discussion about this post