নিজস্ব প্রতিবেদক :
সোনারগাঁজুড়ে যেন চলছে এক অঘোষিত লুটপাটের রাজত্ব। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ব্যর্থতা ও রহস্যজনক নীরবতায় পুরো উপজেলাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক ভয়াবহ অরাজক পরিস্থিতি।
অভিযোগ উঠেছে, অসাধু কিছু কর্মকর্তা মাসোয়ারা বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদকে জাহান্নামে ঠেলে দিচ্ছেন, আর সেই সুযোগে চোর-ডাকাত ও প্রভাবশালী চক্র মিলে চালিয়ে যাচ্ছে অবাধ দখল ও লুটপাট।
থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন—সবাই যেন অদৃশ্য কোনো চাপে নীরব দর্শকের ভূমিকায়।
ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “আইন আছে, কিন্তু তার কোনো প্রয়োগ নেই।”
এই বিশৃঙ্খলার সুযোগে সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অবৈধ কর্মকাণ্ড। নতুন করে একটি চুনা কারখানায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়ার প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে, যা সরাসরি সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির কারণ হতে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পিরোজপুর ইউনিয়নের মৃধাকান্দি ব্রিজের নিচে ইতোমধ্যেই মাটি খনন করে গ্যাস লাইনের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আজ রাত ৯টা থেকে ১২টার মধ্যে যেকোনো সময় ওই কারখানায় গোপনে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হতে পারে।
এ ঘটনায় মঞ্জুর হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় অবৈধ চুনা কারখানার দৌরাত্ম্য চলছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, একাধিকবার সংবাদ প্রকাশ ও প্রশাসনের অভিযান পরিচালিত হলেও রহস্যজনক কারণে এসব অবৈধ কারখানা পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। বরং সময়ের ব্যবধানে আবারও নতুন উদ্যমে শুরু হচ্ছে একই অপরাধমূলক কার্যক্রম।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—কার ছত্রছায়ায় চলছে এই অবৈধ গ্যাস সংযোগ ? কেন প্রশাসন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে? নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বন্ধ করে রাখা হয়েছে ?
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অবিলম্বে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ, সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তার এবং জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সোনারগাঁবাসীর একটাই প্রশ্ন—রাষ্ট্রের আইন কি শুধুই কাগজে-কলমে, নাকি এর বাস্তব প্রয়োগও দেখা যাবে ?









Discussion about this post