নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে আবারও প্রকাশ্যে এসেছে চোরাই তেলের শক্তিশালী সিন্ডিকেটের চিত্র, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শাসকদল ঘনিষ্ঠ এক বিতর্কিত নাম—আনোয়ার হোসেন মেহেদী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি শামীম ওসমান-ঘনিষ্ঠ ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে চোরাই তেলের অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন।
শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে গোদনাইল এলাকায় পদ্মা ওয়েল কোম্পানির ডিপোর পাশেই অবস্থিত ‘মেসার্স মেহেদী এন্টারপ্রাইজ’-এ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুহা তাবিলের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে প্রায় ১২০০ লিটার অবৈধ অকটেন ও ডিজেল উদ্ধার করা হয়—যা একটি সুসংগঠিত তেল চুরি চক্রের শক্ত উপস্থিতির প্রমাণ দেয়।
তবে এত বড় অবৈধ কর্মকাণ্ডের পরও মাত্র ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেই দায় সেরে ফেলার ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি শুধুই আইনি প্রহসন, নাকি প্রভাবশালীদের রক্ষার আরেকটি কৌশল ?
আওয়ামী লীগের পট পরিবর্তনের পর বর্তমান প্রেক্ষাপটে চোরাই তেলের গডফাদার এই মেহেদীর ছোট ভাই লিটন পুরো তেল চোরের সম্রাজ্য পরিচালনা করছেন। জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে থানা পুলিশের কনস্টেবল পর্যন্ত সকলকে নিয়মিত মাসোয়ারা দিয়ে এ লিটন চোরাই তেলের কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলো। তবে ভোক্তা অধিকারের সিদ্ধিরগঞ্জের একজন নির্ভরযোগ্য বিশেষ পেশার দালালকে মাসোয়ারা না দেওয়ায় আজকের এই অভিযান পরিচালনা করে নতুন করে মাসোয়ারা ভিত্তিক চুক্তি করতে বাধ্য করে লিটনকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলো জোর গুঞ্জন রয়েছে মেহেদির এই চোরাই তেলের আস্তানায়।
স্থানীয় সূত্র ও বিভিন্ন অভিযোগে উঠে এসেছে, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ এই নেতা এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলার আসামি মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের একটি অংশকে ‘ম্যানেজ’ করেই নির্বিঘ্নে এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো নতুন কিছু নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে একই কায়দায় চলছে তেল চুরি, মজুদ ও বিক্রির কারবার।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এ ধরনের অভিযান সত্ত্বেও তার সিন্ডিকেট ভেঙে পড়ার কোনো লক্ষণ নেই। বরং স্থানীয়দের দাবি, আগের মতোই বীরদর্পে চলছে চোরাই তেলের ব্যবসা, যেন আইন তার কাছে সম্পূর্ণ অকার্যকর।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র জরিমানা নয়—এই চক্রের পেছনে থাকা রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে না দিলে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না। অন্যথায়, প্রশাসনের অভিযান শুধু ‘দেখানোর’ মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, আর অপরাধীরা থেকে যাবে অদৃশ্য সুরক্ষার বলয়ে।
শেষকথা:
সিদ্ধিরগঞ্জের এই ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে—যখন অপরাধীরা রাজনৈতিক প্রভাবের আড়ালে থাকে, তখন আইন প্রয়োগ হয়ে পড়ে দুর্বল। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কি সত্যিই এই সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটন করবে, নাকি আগের মতোই দায়সারা পদক্ষেপেই থেমে যাবে।









Discussion about this post