নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দুবাইফেরত এক প্রবাসী যুবককে অপহরণ, স্বর্ণ ও নগদ অর্থ লুট এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা রহস্যজনকভাবে নীরব থেকেছেন, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীলতা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
রোববার (২৪ মে) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ফতুল্লা আমলী আদালত) এম সাইফুল ইসলাম এ ঘটনায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করেন।
একইসঙ্গে মামলাটি সরাসরি এজহার (এফআইআর) হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন আদালত।
মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জের চর মুক্তারপুর এলাকার প্রবাসী যুবক বাবু (২৫) গত ১৪ মে রাতে দুবাই থেকে দেশে ফেরার পথে ফতুল্লার কাশীপুর ব্রিজ এলাকায় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসীর কবলে পড়েন। সাদ্দাম হোসেন ও আকরাম প্রধানসহ অজ্ঞাত ৫-৭ জন তাকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে গোপন আস্তানায় নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছ থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা ও প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়।
পরে মুক্তির জন্য আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
এমন গুরুতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ফতুল্লা থানার ওসিকে তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
কিন্তু বিস্ময়করভাবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়নি, এমনকি তদন্তের অগ্রগতির বিষয়েও আদালতকে অবহিত করা হয়নি।
পুলিশের এই দায়িত্বহীনতা ও রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বিচারক।
আদালতের লিখিত আদেশে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি, তা ব্যাখ্যা দিতে ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচার বিভাগের এমন কঠোর পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়েছে—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।
তবে আদালতের চাপের মুখে পড়ে পুলিশ হঠাৎ করেই তৎপর হয়ে অপহৃত প্রবাসীকে উদ্ধার করে।
কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে—আদালতের নির্দেশ না এলে কি এই উদ্ধার অভিযান আদৌ হতো ? কেন শুরু থেকেই এমন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় পুলিশ সক্রিয় ভূমিকা নেয়নি ?
এদিকে, এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলমের বক্তব্য আরও বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
তিনি দাবি করেন, আদালতের কোনো নির্দেশ তার কাছে পৌঁছেনি।
এমনকি আসামি গ্রেফতারের বিষয়েও তিনি দায় এড়িয়ে বলেন, আদালত শুধু ভিকটিম উদ্ধারের কথা বলেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি স্পর্শকাতর অপহরণ ও লুটের ঘটনায় পুলিশের এমন উদাসীনতা শুধু দায়িত্বহীনতাই নয়, বরং এর পেছনে অন্য কোনো অস্বচ্ছ যোগসাজশ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা জরুরি। তারা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ইতোমধ্যে পুরো জেলায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এখন দেখার বিষয়—এই ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, নাকি সবকিছু আবারও ধামাচাপা পড়ে যায়।









Discussion about this post