নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি সাংস্কৃতিক-সামাজিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘ফল উৎসব’ অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী।
তিনি তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, “নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা পরিচয় পাল্টে ছাত্রদল ও যুবদলের নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাজনীতির নামে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা রাজনীতি না করে দেশের জন্য ইতিবাচক কিছু করুক—প্রয়োজনে সীমান্ত পাহারা দিক।”
ঘটনাস্থলে যা ঘটেছে
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরই একদল যুবক মিছিল নিয়ে এসে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরে তারা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজন ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যদিও আহতদের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র সদৃশ বস্তু বহন করতে দেখা গেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশে ভাঙচুরের চিহ্নও পাওয়া গেছে।
‘ফলের মাস’ ঘিরে আয়োজন, তবুও সহিংসতা
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী তার বক্তব্যে বলেন, “এটি মূলত একটি সামাজিক অনুষ্ঠান ছিল। জুন মাস বাঙালির ফলের মৌসুম—আম, জাম, কাঁঠালসহ দেশীয় ফল নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা হয়।”
তিনি দাবি করেন, দেশের কৃষিপণ্য বিশেষ করে ফল বিদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ ধরনের একটি শান্তিপূর্ণ আয়োজনেও হামলা হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং এটিকে “কাপুরুষোচিত আচরণ” হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রূপগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব বিদ্যমান। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতির প্রভাব স্থানীয় পর্যায়েও পড়ায় এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,
# রাজনৈতিক পরিচয় বদলে সহিংসতায় জড়ানোর অভিযোগ নতুন নয়
# স্থানীয় নেতৃত্বের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও প্রভাব বিস্তারই অনেক সময় সংঘর্ষের মূল কারণ
# সামাজিক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোও এখন রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চে পরিণত হচ্ছে
প্রশাসনের ভূমিকা
ঘটনার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্তের প্রস্তুতি চলছে।
উপসংহার
রূপগঞ্জের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, রাজনৈতিক উত্তেজনা যখন চরমে পৌঁছায়, তখন সাধারণ সামাজিক আয়োজনও সহিংসতার বাইরে থাকে না। স্থানীয় জনগণ এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।









Discussion about this post