নিজস্ব প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির এক বর্ষীয়ান ও ত্যাগী নেতার ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং দলটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার চরম ভাঙনের উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করে।
জেলা পরিষদ কার্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মরণে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি নেতা অখিলউদ্দিন ভূইয়ার ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার ঘটনা দলটির সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং নিয়ন্ত্রণহীনতার এক নির্মম চিত্র তুলে ধরেছে।
এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান সাদেক।
আজ শনিবার (৬ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সিনিয়র নেতাদের উপস্থিতিতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়—এটি পুরো জেলা বিএনপির শৃঙ্খলা ও ঐক্যের ওপর সরাসরি আঘাত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে কিছু উশৃঙ্খল ব্যক্তি এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং পরবর্তীতে দায় এড়াতে তড়িঘড়ি করে ‘বহিষ্কার নাটক’ সাজানো হচ্ছে। অথচ যাদের বহিষ্কারের কথা বলা হচ্ছে, তারা জেলা বা থানা যুবদলের কেউই নন—এমনকি তাদের তিনি চেনেন বলেও স্বীকার করেননি।
এতে স্পষ্ট হয়, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতেই এই ধরনের বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে সাদেকুর রহমান সাদেক কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ব্যক্তিগত পেশীশক্তির দাপট দেখাতে ভাড়াটে লোকজন ব্যবহার করে অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করা হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এমন অপকর্মের দায় যুবদল বহন করবে না এবং এ ধরনের অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
তিনি অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হামলার মূল হোতা ও নির্দেশদাতাদের চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান। পাশাপাশি জেলা বিএনপি ও সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান—দলকে রক্ষা করতে হলে এখনই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে, নচেৎ ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।
এই ঘটনা প্রমাণ করে, রাজনৈতিক দলের ভেতরে যদি শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা না থাকে, তবে তা শুধু দলের জন্য নয়—গণতান্ত্রিক চর্চার জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি নেতৃত্ব এই ঘটনাকে কতটা গুরুত্ব দিয়ে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, নাকি আবারও দায়সারা ব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।









Discussion about this post