নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জে মেধাবী শিক্ষার্থী তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলার বিচারহীনতার ১৫৯ মাস পূর্তি উপলক্ষে আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করেছে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট।
সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যায় আলী আহাম্মদ চুনকা নগর মিলনায়তন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা দীর্ঘদিনেও বিচার না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের দাবি জানান।
সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি, শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী, উপদেষ্টা প্রদীপ ঘোষ বাবু, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, সিপিবি জেলা সভাপতি শিবনাথ চক্রবর্তীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি অভিযোগ করেন, দেশের বিচারব্যবস্থা এখনো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।
তার ভাষায়, “বিচার প্রক্রিয়া কার্যত রাজনৈতিক ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।” তিনি বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১১ বছরেও এই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা না পড়া বিচারহীনতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
তিনি আরও বলেন, বহুবার তারিখ নির্ধারণ হলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত সংস্থা অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারেনি, যা বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে—তাদের বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে অভিযোগপত্রে উল্লেখ থাকতে হবে এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
“বিচারহীনতার সংস্কৃতি ভাঙতে হবে”
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ত্বকী হত্যার বিচার না হওয়া কেবল একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। তারা উল্লেখ করেন, দেশে একের পর এক আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হওয়া বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করছে।
বক্তারা ২০১২ সালের সাগর-রুনি হত্যা এবং কুমিল্লার তনু হত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এসব ঘটনায়ও দীর্ঘদিন বিচার না হওয়ায় মানুষের আস্থা কমছে। নারায়ণগঞ্জে সংঘটিত অন্যান্য হত্যাকাণ্ডেরও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
ঘটনার পটভূমি
২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তে উঠে আসে, তাকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। ২০১৪ সালে তদন্ত সংস্থা র্যাব এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, সংগঠিত একটি চক্রের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই অভিযোগপত্র এখনো আদালতে জমা হয়নি।
ধারাবাহিক কর্মসূচি
ত্বকী হত্যার বিচার দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট শুরু থেকেই নিয়মিত কর্মসূচি পালন করে আসছে। প্রতি মাসের ৮ তারিখ আলোক প্রজ্বালনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার দাবি জানিয়ে আসছে।









Discussion about this post