নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাস বিস্ফোরণ—একই পরিবারের তিন প্রাণ ঝরল, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরও দুই শিশু
হাসপাতাল প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়, আর মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে এখনও দুই শিশু।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ভোরে বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর এলাকায় একটি ভাড়াটিয়া বাড়িতে ঘটে এ দুর্ঘটনা।
প্রতিদিনের মতোই সকালে রান্না করতে গিয়ে অজান্তেই মৃত্যুকে ডেকে আনেন গৃহিণী সুলতানা বেগম।
ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ অবস্থায় চুলায় আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরিত হয়ে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে।
দগ্ধ হন আব্দুল মান্নান মিয়া (৫০), তার স্ত্রী সুলতানা বেগম (৩৮), তাদের একমাত্র ছেলে কলেজপড়ুয়া সিয়াম (১৯), মেয়ে মিম (১১) এবং পাশের কক্ষের শিশু হযরত আলী।
গুরুতর অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।
চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শনিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আব্দুল মান্নান মিয়া, সুলতানা বেগম ও তাদের আদরের ছেলে সিয়াম।
সোমবার (১৫ জুন) কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বাড়ির মালিক আক্তার হোসেন অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়েছিলেন, যা থেকেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সূত্রপাত।
একটি অবৈধ সংযোগ যে কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে, এই ঘটনা তারই নির্মম উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছে ছোট্ট মিম ও প্রতিবেশী শিশু হযরত আলী। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং নিহতদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নই কেড়ে নেয়নি, বরং অবৈধ গ্যাস সংযোগের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে সবাইকে।
একটি ছোট অসচেতনতা কিংবা অবহেলাই যে মুহূর্তে কেড়ে নিতে পারে পুরো পরিবার—বন্দরের এই ট্র্যাজেডি সেই কঠিন বাস্তবতারই করুণ স্মারক।









Discussion about this post