বাবা, মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর পর আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস; বেঁচে আছে কেবল প্রতিবেশী এক শিশু
হাসপাতাল প্রতিবেদক :
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে একে একে ঝরে গেল একটি পরিবারের চারটি প্রাণ।
সর্বশেষ মৃত্যু হলো ১৩ বছর বয়সী মিমের।
তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে পুরো পরিবারটি যেন চিরতরে নিভে গেল—পিছনে রেখে গেল গভীর শোক আর অসীম বেদনা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ভোরে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় মিম।
চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের ৫১ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল এবং শ্বাসনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে একই ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল শুরু হয় কয়েকদিন আগেই।
গত শুক্রবার (১২ জুন) মারা যান মা সুলতানা বেগম (৩৫), যার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। এরপর সোমবার (১৫ জুন) ভোরে মারা যান বাবা আব্দুল মান্নান (৫০), যিনি ৩৫ শতাংশ দগ্ধ ছিলেন। একই দিন সকালেই নিভে যায় তাদের ছেলে সিয়াম (১৯)-এর জীবন প্রদীপ—তার শরীরের ৭৭ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
একটি পরিবার—যেখানে ছিল স্বপ্ন, হাসি আর ভবিষ্যতের আশা—কয়েকদিনের ব্যবধানে পরিণত হলো শোকের স্তূপে।
মিমের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সেই পরিবারের শেষ আলোটুকুও নিভে গেল।
বর্তমানে এ ঘটনায় জীবিত রয়েছে কেবল প্রতিবেশী শিশু হযরত আলী (৮)। ৮ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় সে হাসপাতালের অবজারভেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তার ছোট্ট শরীর বেঁচে থাকলেও এই ট্র্যাজেডির মানসিক ক্ষত হয়তো সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হবে তাকে।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চানপুর এলাকায় একটি একতলা বাড়িতে এ মর্মান্তিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, বাড়িটিতে তিতাসের গ্যাস লাইনের পাশাপাশি সিলিন্ডারের সংযোগ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস সকালে আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরিত হয়।
একটি মুহূর্ত, একটি অসাবধানতা কিংবা অদৃশ্য ত্রুটি—আর তাতেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল একটি পরিবার। এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি আমাদের অসচেতনতা, অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তাহীনতার নির্মম প্রতিচ্ছবি।
এই শোক কেবল একটি পরিবারের নয়—এটি পুরো সমাজের। এখন প্রশ্ন একটাই: আর কত প্রাণ গেলে আমরা সচেতন হব ?









Discussion about this post