রিমান্ড শেষে স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকৃতি, কারাগারে প্রেরণ জামশেদ
আদালত প্রতিবেদক :
(নারায়ণগঞ্জ, ১৬ জুন) :
চাঞ্চল্যকর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন আসামি মো. জামশেদ।
পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের খাস কামরায় রিমান্ডে থাকা আসামি জামশেদকে হাজির করা হয়।
এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট তাকে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিতে চান কিনা জিজ্ঞাসা করলে জামশেদ জানান, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না এবং কোনো স্বীকারোক্তি দেবেন না।
স্বীকারোক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।
এর আগে, ত্বকী হত্যা মামলায় আজমেরী ওসমানের গাড়িচালক ও সহযোগী মো. জামশেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।
রোববার (১৪ জুন) নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন আরাফাত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
শুনানিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জামশেদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তার ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে তাকে রিমান্ডে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সময় বাড়ানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে র্যাব-১১ জামশেদকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দুই দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে মামলার তদন্তে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসে।
২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর কাজল হাওলাদার আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে দাবি করেন, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। এর আগে সুলতান শওকত (ভ্রমর) নামের আরেক সহযোগীর নামও উঠে আসে।
২০১৪ সালের ৫ মার্চ র্যাব এক সংবাদ সম্মেলনে জানায়, ওসমান পরিবারের নির্দেশে একটি টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি, যা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়ে গেছে।









Discussion about this post