নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের মাদানী নগর এলাকায় আবাসিক পরিবেশের মধ্যে গড়ে ওঠা একটি কয়েল কারখানাকে ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম, পরিবেশ দূষণ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
‘শাপলা কয়েল ফ্যাক্টরি’ নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করে তুলছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে কারখানাটি।
এখানে বাংলা কিং, এ টু জেড ও শাপলা এক্সক্লুসিভ ব্র্যান্ডের কয়েল উৎপাদন করা হলেও উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ন্যূনতম মানদণ্ড মানা হচ্ছে না।
কারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক ও কাঁচামাল থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর ফলে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এক কথায়, একটি অবৈধ কারখানার কারণে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে স্বাস্থ্যঝুঁকির কেন্দ্রবিন্দুতে।
এখানেই শেষ নয়—কারখানাটির বিরুদ্ধে অবৈধ গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহারের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এলাকাবাসীর দাবি, একাধিকবার অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানা করা হলেও রহস্যজনকভাবে আবারও চালু করা হয়েছে কার্যক্রম। এতে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়েও।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই কারখানায় শিশু শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের দিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করানো হচ্ছে। কোনো ধরনের সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই তাদের রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে রাখা হচ্ছে, যা সরাসরি শ্রম আইন লঙ্ঘন এবং মানবাধিকারের চরম অবমাননা।
এছাড়া নিম্নমানের পণ্য উৎপাদন করে বাজারজাত করা, অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা এবং বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে কারখানাটির বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে এটি যেন একটি ‘অবৈধ কর্মকাণ্ডের হাব’ হিসেবে গড়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নানা উপায়ে প্রভাবিত করে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বারবার অভিযোগ ওঠার পরও দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “আমরা যেন নিজেদের বাসায় বন্দি হয়ে গেছি। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, শিশুদের অসুস্থতা বাড়ছে—কিন্তু দেখার কেউ নেই।”
এ বিষয়ে কারখানার মালিক অরুণ মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের একটাই প্রত্যাশা—এই অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে জনদুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।
প্রশ্ন এখন একটাই—কতদিন চলবে এই অবৈধতা ? আর কবে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হবে দায়ীদের ?









Discussion about this post