স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অপহরণ চেষ্টার অভিযোগে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।
এদের মধ্যে তিনজন স্থানীয়দের গণপিটুনিতে আহত হয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম।
তিনি জানান, একই দিনে ভুক্তভোগী এক তরুণ গ্রেপ্তার চার পুলিশ সদস্যসহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন মাতুব্বর (৪০), সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমান উল্লাহ (৩৪), কনস্টেবল কবির (৩৩) এবং কনস্টেবল আকাশ আহাম্মেদ (৩০)। তারা সবাই ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত বলে জানা গেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে রূপগঞ্জ উপজেলার ভুলতা গাউসিয়া এলাকায় অমিত হাসান মিরাজ (৩০) নামে এক যুবককে অপহরণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে।
এ সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা অভিযুক্তদের ভুয়া পুলিশ মনে করে গণপিটুনি দেয়।
এতে এসআই মামুন, এএসআই আমান ও কনস্টেবল কবির আহত হন। পরে তাদের প্রথমে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, ঘটনার পরদিন শুক্রবার ভোররাতে ঢাকা থেকে কনস্টেবল আকাশ আহাম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভুক্তভোগী অমিত হাসান মিরাজ সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার এলাকার বাসিন্দা।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তিনি এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে গাউসিয়া এলাকায় গেলে সাদা পোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের সিআইডি সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে আটক করেন। তারা অনলাইন ক্যাসিনো তদন্তের কথা
বলে একটি পাবলিক টয়লেটে নিয়ে তাকে আটকে রাখেন এবং মোবাইল ফোন তল্লাশি করেন।
অমিত অভিযোগ করেন, মোবাইলে কোনো তথ্য না পেয়ে তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্তদের আটক করে গণপিটুনি দেয়।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগেও একই চক্র তার এক আত্মীয়কে অপহরণ করে কেরানীগঞ্জে নিয়ে গিয়ে আড়াই লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে।
এছাড়া এক মাস আগে জাকির হোসেন নামে আরেক ব্যক্তিকেও একইভাবে অপহরণ করে মুক্তিপণ নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্তরা কখনো সিআইডি, আবার কখনো ডিবি পরিচয় দিয়ে অপহরণ করে অর্থ আদায় করতেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের দুই সহযোগী— গাড়িচালক আবু বক্কর সিদ্দিক (৫০) ও মো. সেলিম (৪৫) পলাতক রয়েছেন।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে।









Discussion about this post