তদবিরে আইনের শ্বাসরোধ: এমপি পুত্র সজীবের ‘মুক্তি’ ঘিরে প্রশ্নের ঝড়
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ:
চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগে আটক—তারপর রাতভর তদবির—শেষে মুচলেকায় মুক্তি।
ঘটনাটি যেন আইনের শাসনের মুখে এক চপেটাঘাত।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে খাইরুল ইসলাম সজীবকে ঘিরে যা ঘটেছে, তা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্ন দুটোই তীব্র হয়ে উঠেছে।
রোববার (২১ জুন) রাজধানী থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় সজীবকে আটক করে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ।
তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির অভিযোগ ছিল বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আটক হওয়ার পর তাকে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় ডিবি কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়।
কিন্তু অভিযোগের গুরুত্ব যতটা, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ততটাই বিতর্কিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গ্রেফতারের পর থেকেই এমপি মান্নান প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। উচ্চ পর্যায়ে তদবির, ফোনকল আর চাপ প্রয়োগ—সবকিছু মিলিয়ে যেন আইনের গতিপথকে বাঁকিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চলে রাতভর।
আর শেষ পর্যন্ত সোমবার (২২ জুন) মুচলেকা নিয়ে সজীবের মুক্তি—এই প্রশ্নই তুলেছে, “আইন কি সবার জন্য সমান ?”
পুলিশ সূত্র জানায়, সজীবের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা প্রধানও স্বীকার করেছেন, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়েছিল। কিন্তু এত গুরুতর অভিযোগের পরও কীভাবে এত দ্রুত মুক্তি—এই প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব মেলেনি।
এদিকে, ঘটনার পরপরই রাজনৈতিক দল থেকেও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়। যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি সজীবকে দল থেকে বহিষ্কার করে জানিয়ে দেয়—তার কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না। এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির গুরুত্বই তুলে ধরে, কিন্তু একইসাথে প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও উন্মোচন করে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের অভিযোগ আরও ভয়াবহ। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সোনারগাঁ অঞ্চলে বিভিন্ন খাত থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছিলেন সজীব।
বিশেষ করে বড় শিল্পগোষ্ঠীর যানবাহন আটকে হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ সামনে এসেছে। সর্বশেষ একটি ঘটনায় মোটা অংকের দাবির প্রেক্ষিতে অভিযোগ দায়ের হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করতে বাধ্য হয়।
কিন্তু প্রশ্ন একটাই—
যেখানে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেও ন্যায্য বিচার পায় না, সেখানে ক্ষমতার ছত্রছায়ায় থাকা একজন অভিযুক্ত কীভাবে এত সহজে মুক্তি পায় ?
এই ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির নয়, এটি রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। যদি অভিযোগ সত্য হয়, তবে তার বিচার হওয়া উচিত আদালতে—তদবিরের টেবিলে নয়।
আর যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়, তবে সেটিও প্রমাণ হোক স্বচ্ছ তদন্তে—গোপন সমঝোতায় নয়।
নারায়ণগঞ্জবাসী এখন উত্তর চায়—
আইনের চোখ কি সত্যিই অন্ধ, নাকি ক্ষমতার সামনে ইচ্ছাকৃতভাবে চোখ বুজে থাকে ?









Discussion about this post