‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ মহিষ এবার গবেষণা কেন্দ্রে: জনআলোচনার কেন্দ্র থেকে গবেষণাগারে
নিজস্ব প্রতিবেদক
একসময় কোরবানির পশু হিসেবে বিক্রির জন্য আনা হয়েছিল। পরে নামকরণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা এবং দেশ-বিদেশে কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হওয়ার পর সরকারিভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সেই বহুল আলোচিত বিরল অ্যালবিনো সাদা মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে এবার জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে সরিয়ে সাভারের বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)-এ স্থানান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আলোকে সাদা মহিষটিকে গবেষণা কার্যক্রমের জন্য বিএলআরআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে পুরো স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
কোরবানির খামার থেকে জাতীয় আলোচনায়
গত ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-এর একটি খামারে লালন-পালন করা বিরল অ্যালবিনো প্রজাতির সাদা মহিষটি কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।
তবে প্রাণিটির মাথার সামনের অংশে থাকা বিশেষ ধরনের সাদা চুলের বিন্যাস দেখে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে সাদৃশ্য খুঁজে পান খামার মালিক। সেখান থেকেই এর নাম রাখা হয় ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’।
নামটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে মহিষটি।
দেশীয় গণমাধ্যমের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। অনেকে প্রাণীটির বিরলতা নিয়ে আলোচনা করেন, আবার কেউ কেউ নামকরণকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া জানান।
কোরবানি থেকে রক্ষা, এরপর চিড়িয়াখানায়
জনআগ্রহ ও প্রাণীটির বিরল বৈশিষ্ট্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার শেষ পর্যন্ত মহিষটিকে কোরবানি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
গত ২৭ মে পুলিশ কর্তৃক উদ্ধারের পর থানা হেফাজতে থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয় প্রাণীটিকে।
চিড়িয়াখানায় আনার পর ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়। প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী বিরল সাদা মহিষটি দেখতে ভিড় করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত এর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
গবেষণার স্বার্থে নাকি জনদৃষ্টি থেকে দূরে ?
সর্বশেষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে মহিষটিকে সাভারের বিএলআরআইয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্য, জিনগত গঠন এবং প্রাণিসম্পদ গবেষণার সম্ভাবনা বিবেচনায় এনে গবেষণা প্রতিষ্ঠানে নেওয়া হয়েছে প্রাণীটিকে।
তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনেকের প্রশ্ন, দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠা প্রাণীটিকে কেন চিড়িয়াখানা থেকে সরানো হলো।
আবার কেউ কেউ মনে করছেন, গবেষণার মাধ্যমে বিরল এ বৈশিষ্ট্যের প্রাণী সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া যেতে পারে, যা দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিরল অ্যালবিনো মহিষ
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যালবিনিজম একটি বিরল জিনগত বৈশিষ্ট্য, যার কারণে প্রাণীর শরীরে স্বাভাবিক রঞ্জক পদার্থের ঘাটতি দেখা যায়। ফলে শরীরের রং সাদা বা অস্বাভাবিকভাবে ফ্যাকাশে হয়ে ওঠে। এ ধরনের প্রাণী প্রকৃতিতে খুব কম দেখা যায়, যা তাদেরকে আরও ব্যতিক্রমী করে তোলে।
কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য আনা একটি মহিষ থেকে শুরু করে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এবং এখন গবেষণাগারের সদস্য—‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই সাদা মহিষের যাত্রাপথ Stability দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম আলোচিত প্রাণী কাহিনিতে পরিণত হয়েছে।









Discussion about this post