ঘুষের অভিযোগ বাদীর, পুলিশের দাবি—ঘটনার সময় আসামি ছিলেন সুনামগঞ্জে
নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ব্যবসায়ী রিপন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে হত্যা মামলায় চালান না করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পরিবার।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের বদর উদ্দিন মার্কেট এলাকা থেকে আমজাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়।
নিহতের স্ত্রী ও মামলার বাদী নূর জাহান বেগম অভিযোগ করেন, আমজাদ হোসেন রিপন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
তবে গ্রেপ্তারের পর তাকে হত্যা মামলায় চালান না করে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিরাজ সাহা আসামিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে এ কাজ করেছেন, যাতে আসামি দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে পালিয়ে যেতে পারেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, কালাপাহাড়িয়া এলাকার কয়েকজন সন্ত্রাসী রিপন মিয়ার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২০২৫ সালের ৭ জুলাই রাত আড়াইটার দিকে তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
এরপর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
বাদীর দাবি, ঘটনার প্রায় ৯ মাস পার হলেও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে কার্যকর ভূমিকা নেয়নি। পরে আদালতের মাধ্যমে আবেদন করে মামলাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিরাজ সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, আমজাদ হোসেনকে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তদন্তে তার কল ডিটেইলস (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘটনার সময় তিনি সিলেটের সুনামগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। তাই কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সে কারণে তাকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তবে বাদী নূর জাহান বেগম এ বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ঘটনার সাক্ষী ও এলাকাবাসী আমজাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।









Discussion about this post