ঢাকার পূর্বাঞ্চলের যানজট নিরসনে বড় পদক্ষেপ
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কাঁচপুরে, চার মাসে নির্মাণের লক্ষ্য
স্টাফ রিপোর্টার :
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সায়েদাবাদ আন্তজেলা বাস টার্মিনাল কাঁচপুরে স্থানান্তরের প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসতে পারে।
বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী চার মাসের মধ্যেই কাঁচপুরে নতুন বাস টার্মিনাল ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেডকে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় এই পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
‘কাঁচপুর বাস টার্মিনালের শেড নির্মাণ, টিকিট কাউন্টার, টয়লেট এবং অফিস কক্ষসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা নির্মাণ’ শীর্ষক এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ কোটি ৮৮ লাখ ২ হাজার ৫৩২ টাকা। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪ হাজার ১২ বর্গমিটার প্ল্যাটফর্মে ঢালাই ও টাইলস বসানো হবে। এছাড়া ১৫ হাজার ৫৭৩ কেজি প্রোফাইল শিট ব্যবহার করে আধুনিক শেড নির্মাণ করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন টার্মিনালে থাকবে ১২০টি টিকিট কাউন্টার, ৩২টি টয়লেট, প্রয়োজনীয় অফিস কক্ষ, পার্টিশন ও অন্যান্য সহায়ক স্থাপনা। ফলে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তজেলা বাস টার্মিনাল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ঢাকা মহানগরীর যানজট কমাতে এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সায়েদাবাদ টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই অনুযায়ী স্থানীয় সরকার বিভাগ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণসহ সব প্রস্তুতি চার মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সায়েদাবাদ এলাকায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক বাস প্রবেশ ও প্রস্থান করে, যা আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি করে। কাঁচপুরে টার্মিনাল স্থানান্তরিত হলে এই চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং শহরের ভেতরে ভারী যানবাহনের প্রবেশও নিয়ন্ত্রণে আসবে।
তবে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা এবং নির্মাণমান বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন অনেকে। পাশাপাশি নতুন টার্মিনাল চালুর পর সড়ক যোগাযোগ ও সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, কাঁচপুরে নতুন বাস টার্মিনাল নির্মাণ শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী যানজট সমস্যার একটি বাস্তবসম্মত সমাধানের দিকে বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে নগরবাসী।









Discussion about this post