মামলা প্রত্যাহারে ব্যর্থ হয়ে ‘টার্গেট’ বৃদ্ধ বাবা: ফতুল্লায় কিলার জাহিদের দুঃসাহসিক হামলা
নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আলোচিত ইমন হত্যা মামলার বাদীকে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করতে না পেরে এবার সরাসরি হামলার শিকার হলেন নিহতের বৃদ্ধ বাবা। পরিকল্পিতভাবে বাসায় ঢুকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা, এরপর গুলি ছুড়ে পালিয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে এলাকায় আবারও আতঙ্ক ছড়িয়েছে চিহ্নিত সন্ত্রাসী জাহিদ ও তার বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে।
মঙ্গলবার (সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা) ফতুল্লার মাসদাইর কাজিবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওমর খৈয়াম (৭০) নামের ওই বৃদ্ধকে প্রথমে খানপুর হাসপাতাল এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হামলার পেছনে মামলা প্রত্যাহারের চাপ
পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ইমন হত্যা মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত জাহিদ বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নিতে চাপ দিয়ে আসছিল। ফোনে হুমকি, লোক মারফত বার্তা—সবই ছিল সেই চাপের অংশ। কিন্তু মামলা প্রত্যাহার না করায় চূড়ান্ত প্রতিশোধ নিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
বোরকা পরে ছদ্মবেশে হামলা
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় জাহিদ নিজেই বোরকা পরে এবং তার সঙ্গে থাকা ৭-৮ জন সহযোগী মুখে মাস্ক পরে ওমর খৈয়ামের বাসায় প্রবেশ করে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘরে ঢুকেই জাহিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং “কথা না শোনার শাস্তি” দিতে বৃদ্ধকে এলোপাতাড়ি কুপাতে শুরু করে।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
ইমন হত্যা: পুরনো ঘটনার ধারাবাহিকতা
উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় ইমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা ওমর খৈয়াম বাদী হয়ে জাহিদসহ তার বাহিনীর অন্তত ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিদের মধ্যে ফেরদৌস, ভুট্টা মাসুদ, গিট্টু রিপন, রনি, আদর, আপন, জসীম, সেলিম, পারভেজ, চক্ষু হৃদয়, সাবু, হোটেল মাসুদ, ফাইটার মনিরসহ আরও অনেকে রয়েছে।
গ্রেফতার এড়াতে ‘কৌশলী’ জাহিদ
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, প্রধান অভিযুক্ত জাহিদকে গ্রেফতারের চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। তবে সে ছদ্মবেশে চলাফেরা করে এবং বোরকা পরে আত্মগোপনে থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হচ্ছে না। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন
একই ঘটনায় প্রথমে হত্যাকাণ্ড, এরপর মামলা প্রত্যাহারে চাপ, এবং সর্বশেষ বাদীর উপর সরাসরি হামলা—এই ধারাবাহিকতায় স্থানীয়দের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, চিহ্নিত একজন সন্ত্রাসী কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে এমন দুঃসাহসিক হামলা চালাতে পারে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।









Discussion about this post