ফতুল্লায় ‘টর্চারসেল’ আতঙ্ক: শ্রমিক অপহরণ করে ব্ল্যাকমেইল, দেড় লাখ টাকা আদায়
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গড়ে ওঠা একটি কথিত ‘টর্চারসেল’ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, মাদক ব্যবসার মিথ্যা অভিযোগ তুলে শ্রমিকদের ধরে এনে নির্যাতন চালিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে একটি সংঘবদ্ধ ব্ল্যাকমেইল চক্র।
সাম্প্রতিক এক ঘটনায়, লোড-আনলোডের কাজে নিয়োজিত তিন শ্রমিককে অপহরণ করে সারারাত নির্যাতনের পর দেড় লাখ টাকা আদায় করে ছেড়ে দেয় চক্রটি।
শনিবার (দুপুরে) ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ফতুল্লার শাসনগাঁও বিসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, বিসিক এলাকায় কাজ করা শ্রমিক ফুল মিয়া সর্দার শুক্রবার গভীর রাতে গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে কর্মস্থলে আসেন। তাকে আনতে আসেন তার ভাতিজা রুহুল আমিন ও আরেক সহকর্মী। পথে তাদের আটকে দেয় স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, রুবেল, বাচ্চু ও মঞ্জুসহ ৭-৮ জনের একটি দল তাদের একটি নির্জন ঘরে নিয়ে যায়, যেটিকে স্থানীয়রা ‘টর্চারসেল’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সেখানে তিনজনকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় এবং তাদের হাতে ইয়াবা দিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তাদের মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
জীবন বাঁচাতে ফুল মিয়া তার কাছে থাকা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে দেন। এরপর রুহুল আমিনের এটিএম কার্ড ব্যবহার করে আরও ৩০ হাজার টাকা তুলে নেয় চক্রটি। মোট দেড় লাখ টাকা আদায়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, বিসিক শাসনগাঁও এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই একটি আধা-পাকা ঘরে এই ‘টর্চারসেল’ পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় সন্ত্রাসী বাচ্চুর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী চক্র শ্রমিকদের টার্গেট করে এ ধরনের অপকর্ম চালিয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি বাহিনী নিয়মিত এ কাজে জড়িত।
তারা জানায়, বিশেষ করে মাস শেষে বেতন পাওয়ার পর শ্রমিকদের ধরে এনে নির্যাতন করে টাকা আদায় করা হয়। আশপাশের বাসিন্দারা প্রায়ই চিৎকারের শব্দ শুনলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই অভিযান চালানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই চক্রের মূলহোতাদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তির আওতায় না আনলে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়বে।









Discussion about this post