নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগে অবস্থিত জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসাকে ঘিরে চলমান আন্দোলন নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
অধ্যক্ষ আবু তাহের জিহাদীর পদত্যাগ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পেছনে উসকানির অভিযোগ উঠলেও তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন জমিয়ত নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান।
তবে তার এই অস্বীকার ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক—আসলে কে দিচ্ছে আন্দোলনের ইন্ধন ?
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ফেরদাউস দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, “ছাত্ররা পরিণত, তারা কারও কথায় নয়, নিজেদের সিদ্ধান্তে আন্দোলন করছে।” কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কেন তার বক্তব্যকে ঘিরেই আন্দোলন নতুন করে গতি পেল ?
ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ জুলাই। শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের পদত্যাগ ও শিক্ষক মুফতি হারুনকে পুনর্বহালসহ একাধিক দাবিতে আন্দোলনে নামে। তিন দিনের মধ্যে দাবি পূরণের আশ্বাসে তারা ক্লাসে ফিরলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ। বরং অধ্যক্ষ পুনরায় দায়িত্বে ফিরলে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
এ অবস্থায় ফেরদাউসের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে তার দেওয়া বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ ছড়িয়ে পড়ার পর নানা মহলে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা বাড়ে। সমালোচকদের দাবি, প্রকাশ্যে অস্বীকার করলেও নেপথ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ফেরদাউস পাল্টা প্রশ্ন তোলেন—মুফতি হারুনকে অব্যাহতি দেওয়ার সময় কোথায় ছিলেন স্থানীয় আলেম সমাজ ও সুশীল মহল? তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রশ্ন আসল ইস্যু আড়াল করার কৌশল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
শনিবার সকালে মাদ্রাসার একাংশের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামে এবং দাবি আদায় না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের হুঁশিয়ারি দেয়। পরিস্থিতি যেভাবে উত্তপ্ত হচ্ছে, তাতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের দ্রুত হস্তক্ষেপ না হলে শিক্ষাঙ্গনটি বড় ধরনের অস্থিরতার দিকে ধাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেওভোগ মাদ্রাসার এই সংকট এখন শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়—এটি ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে প্রভাব, প্রভাবশালী মহল এবং নেতৃত্বের দায়বদ্ধতার পরীক্ষায়। প্রশ্ন একটাই—আসল সত্য কোথায়, আর কে দিচ্ছে পর্দার আড়াল থেকে নির্দেশনা ?









Discussion about this post