নগর প্রতিনিধি :
সিদ্ধিরগঞ্জে রহস্যঘেরা মৃত্যু: ভাড়া বাসা, নিখোঁজ ‘স্বামী’ ও শিশুকে ঘিরে জটিল ধাঁধা
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এক গার্মেন্টসকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে বহু প্রশ্ন, সন্দেহ ও উদ্বেগ। ভাড়া বাসার একটি ছোট কক্ষ, অচেনা ‘স্বামী’, আর হঠাৎ নিখোঁজ একটি শিশু—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক অমীমাংসিত ধাঁধা।
ঘটনাস্থল ও প্রাথমিক চিত্র
সোমবার রাত আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকায় শাহজাহান মাস্টারের টিনশেড বাড়ির একটি কক্ষ থেকে ২৩ বছর বয়সী সাদিয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
খাটের ওপর নিথর দেহ, মুখের পাশে জমাট বাঁধা রক্ত—ঘরের নীরবতা যেন লুকিয়ে রেখেছে ভয়াবহ কোনো ঘটনার ইঙ্গিত।
পরিচয়ের আড়ালে লুকানো রহস্য
নিহত সাদিয়া আক্তার পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর শিয়ালকাঠি গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তিনি আদমজী ইপিজেডের একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতেন।
মাত্র কয়েকদিন আগে—১ জুলাই—তিনি ওই বাসায় ওঠেন। সঙ্গে ছিল ৬ বছর বয়সী একটি কন্যাশিশু এবং ‘স্বামী’ পরিচয়ে থাকা এক ব্যক্তি। তবে বাড়ির মালিকের কাছে ওই ব্যক্তির কোনো পরিচয়পত্র জমা দেওয়া হয়নি—যা এখন তদন্তে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিখোঁজ দুইজন: সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দু
ঘটনার পর থেকেই ‘স্বামী’ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি ও শিশুটি নিখোঁজ। তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় পুলিশের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে—
# তারা কি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ?
# নাকি তারাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার শিকার ?
# এই দ্বৈত সম্ভাবনাই তদন্তকে জটিল করে তুলেছে।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি ‘রহস্যজনক মৃত্যু’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বড় প্রশ্নগুলো এখনো অমীমাংসিত
এই ঘটনাকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—
# সাদিয়ার মৃত্যুর পেছনে কি পারিবারিক দ্বন্দ্ব, নাকি পরিকল্পিত অপরাধ ?
# ‘স্বামী’ পরিচয়ে থাকা ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় কী ?
# নিখোঁজ শিশুটির নিরাপত্তা কোথায় ?









Discussion about this post