চাষাড়ায় ‘চিকিৎসার নামে প্রতারণা’: পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অবহেলায় শিশুর জীবন সংকটে
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ :
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাড়ায় অবস্থিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার নামে প্রতারণা, অব্যবস্থাপনা ও ভয়াবহ অবহেলার অভিযোগ উঠলেও রহস্যজনক কারণে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
বরং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রভাবশালী মহলকে নানাভাবে ‘ম্যানেজ’ করেই প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কথিত সেবার আড়ালে অনিয়ম ও দুর্নীতির সাম্রাজ্য—এমন অভিযোগ ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, মাসোয়ারা, বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা এবং বিভিন্ন ‘বিশেষ পেশাজীবী’দের কমিশনের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি করে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।
ফলে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্টরা থাকছেন নীরব।
নগরীর অনেক অভিজ্ঞ চিকিৎসক মনে করেন, সঠিকভাবে তদন্ত হলে এই প্রতিষ্ঠানের হাজারো অনিয়ম প্রকাশ পাবে।
এমনই এক ভয়াবহ ঘটনার শিকার হয়েছে ১৬ মাস বয়সী শিশু রাইয়ান।
পরিবারের অভিযোগ, সামান্য একটি মাথার ফোঁড়ার চিকিৎসার জন্য তাকে চিকিৎসক ডা. শফিউল আলমের কাছে নেওয়া হয়। চিকিৎসক কিছু পরীক্ষা দিতে বললে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সেই টেস্ট করাতে যান তারা।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ল্যাবে থাকা অদক্ষ নার্সরা শিশুটির কোমল হাতে দীর্ঘ সময় ধরে বারবার সুই ঢুকিয়ে রক্ত নেওয়ার চেষ্টা করে। এতে শিশুটি চরম যন্ত্রণার মধ্যে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সামান্য রক্ত নিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়।
কিন্তু বাসায় ফেরার পর থেকেই শিশুটির ডান হাত অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং সারা রাত তীব্র ব্যথায় কাতরাতে থাকে।
পরদিন রিপোর্ট নিয়ে পুনরায় চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি শিশুটির হাতের অবস্থা দেখে দ্রুত ঢাকায় কোনো শিশু হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জনের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন এবং জানান, নারায়ণগঞ্জে এর চিকিৎসা সম্ভব নয়।
পরবর্তীতে শিশুটিকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান, রক্ত নেওয়ার সময় গুরুতর ক্ষতির কারণে হাতের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত অপারেশন ছাড়া উপায় নেই।
চিকিৎসকদের পরামর্শে শিশুটির জরুরি অপারেশন করা হয়। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষ কর্মী এবং চরম অবহেলার। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন—একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে ? কার ছত্রছায়ায় চলছে এই ‘চিকিৎসা বাণিজ্য’ ? আর কত জীবন ঝুঁকিতে পড়লে প্রশাসনের টনক নড়বে ?
নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য এখন এই প্রশ্নই বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে—চিকিৎসা নিতে গিয়ে যদি জীবনই বিপন্ন হয়, তবে তারা যাবে কোথায় ?









Discussion about this post