মোঃ নবীউর রহমান দেওয়ান (রূপগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী কাঞ্চন বাজার পরিচালনা কমিটির নির্বাচন দীর্ঘ ২০ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই বাজারকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে বিভিন্ন পদে মোট কয়েকজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে সভাপতি পদে রয়েছেন দুইজন, সাধারণ সম্পাদক পদে ছয়জন, সাংগঠনিক সম্পাদক চারজন, সহ-সভাপতি দুইজন, সহ-সাধারণ সম্পাদক দুইজন, কোষাধ্যক্ষ তিনজন এবং কার্যকরী সদস্য পদে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সভাপতি পদে ছাতা প্রতীক নিয়ে হাজী মতিউর রহমান মতু এবং আনারস প্রতীক নিয়ে হাজী বিল্লাল হোসেন প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে দুই প্রার্থীর পক্ষেই সমর্থন থাকলেও ছাতা প্রতীকের প্রার্থী মতিউর রহমান মতুর জনপ্রিয়তা তুলনামূলক বেশি বলে আলোচনা রয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক পদে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
মোবাইল ফোন প্রতীকের প্রার্থী মোঃ আনিসুর রহমান শরীফ (এমএ) সৎ ও শিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে হরিণ প্রতীকের প্রার্থী জাকির হোসেন ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে, তবে সুষ্ঠু ভোট হলে নিজের জয়ের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। এছাড়া উটপাখি প্রতীকের আলমগীর হোসেন পন্ডিত দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী হওয়ায় বাজারে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। বোতল প্রতীকের জহিরুল ইসলাম জহিরও পুরনো ও ধর্মপ্রাণ ব্যবসায়ী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে হারিকেল প্রতীকের ডাঃ দেওয়ান কামাল ও ফুটবল প্রতীকের সোহেল মাহমুদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মই প্রতীকের প্রার্থী অজিত দাসও নির্দিষ্ট ভোটব্যাংকের ওপর ভর করে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।
সহ-সভাপতি পদে কাপ-পিরিচ প্রতীকের আমিনুল ইসলাম এবং দেয়াল ঘড়ি প্রতীকের হাজী দেলোয়ার হোসেনের মধ্যে সমানে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কোষাধ্যক্ষ পদে তিন প্রার্থীর মধ্যে মোঃ খবির মিয়া এগিয়ে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের ধারণা। কার্যকরী সদস্য পদেও প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে দেওয়ান আনোয়ার হোসেন নিজের অবস্থান নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৮৪০ জন। যদিও আরও ৩৮৪ জন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের বেতন সংক্রান্ত জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি।
কাঞ্চন বাজার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হামিদুল হক খান জানান, নির্বাচনকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, “নির্বাচনে কেউ আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে যত প্রভাবশালীই হোক না কেন।”
দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হবে এবং এর মাধ্যমে বাজার ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।









Discussion about this post