মদ, নারী, জুয়া কেলেঙ্কারির পর এবার কবরস্থানের জমি নিয়ে ভূমি দস্যু তাপুর বিরুদ্ধে দখলচেষ্টার অভিযোগ, পাল্টা অস্বীকার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আওয়ামী লীগের শাসনামলে গডফাদার শামীম ওসমানকে ব্যবহার করে নানা কেলেঙ্কারির হোতা সেই তোফাজ্জল হোসেন তাপুর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তোলপাড় চলছে সদর উপজেলা ফতুল্লা জুড়ে।
নানান কেলেঙ্কারির পর এবারও বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে শামীম ও বোনের সেই ঘনিষ্ঠ সহচর তারপর কর্মকাণ্ড নিয়ে ফতুল্লার অনেকেই সোচ্চার হয়ে উঠেছে।
এবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের মধ্য ধর্মগঞ্জ এলাকায় কবরস্থান নির্মাণকে কেন্দ্র করে জমি দখলের অভিযোগ করেছে স্থানীয় এক নারী নেত্রী। তার পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চলছে বলে দাবিও করেছেন।
অভিযোগকারী ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়ন মহিলা দলের নেত্রী ফাতেমা তুজ্জোহরা জানান, গত ২৩ জুলাই তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক (অধ্যাপক) মামুন মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তুলে ধরেন।
তার দাবি, কবরস্থানের নামে তার পারিবারিক জমি দখলের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় ব্যক্তি তোফাজ্জল হোসেন তাপু ও তার সহযোগীরা এই উদ্যোগের সঙ্গে জড়িত এবং প্রশাসনের প্রভাব ব্যবহার করে জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন।
এর আগে, ২০ জুলাই কবরস্থান নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা করতে অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সঙ্গে দেখা করেন তোফাজ্জল হোসেন তাপু—এমন তথ্য স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের নানা অভিযোগ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাপুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি, জুয়া ও মাদক সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এমন নানান অপকর্মের অসংখ্যবার গ্রেফতার হয়ে আদালতে জরিমানা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন তাপু ও তার সহযোগীরা
কিছু স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, পঞ্চবটি ও আশপাশের এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র বিভিন্ন সময় প্রভাব খাটিয়ে নানা কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
ইউনাইটেড ক্লাবের বক্তব্য
অন্যদিকে, বিগত সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে ইউনাইটেড ক্লাবের বিতর্কিত সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তাপু লিখিত বক্তব্যে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন।
প্রশাসনের অবস্থান
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্লেষণ
কবরস্থান নির্মাণের মতো সংবেদনশীল ইস্যুকে কেন্দ্র করে জমি নিয়ে বিরোধ নতুন নয়। তবে এ ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব, স্থানীয় দ্বন্দ্ব এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বচ্ছ সিদ্ধান্তই এ ধরনের বিরোধ নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।









Discussion about this post