নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের সরকারি জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলার মধ্যেই সেই জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৯ আগষ্ট) দুপুরে ফতুল্লার চাঁনমারী এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি দখল করে শতাধিক দোকানঘর গড়ে উঠেছিল। দুপুরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু করেন।
অভিযান চলাকালে সেখানে হাজির হন ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসান মোহাম্মদ পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে, চাষাঢ়া টেক্সিস্ট্যান্ডের নেতারাও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তাদের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ হওয়া জায়গায় চাষাঢ়ার টেক্সিস্ট্যান্ড স্থানান্তরের কথা জানানো হলে আপত্তি তোলেন ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এ নিয়েই দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা পরস্পরকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় ও মারধরে জড়িয়ে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে যারা অযথা ঝগড়া করতে চেয়েছিল, তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে চাষাঢ়ার টেক্সিস্ট্যান্ড যে জায়গায় রয়েছে, সেটি সেনাবাহিনীর জমি।
তাই টেক্সিস্ট্যান্ডটি চাঁনমারীর সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ এতে বাধা দিলে জেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আশীষ কুমার দাস বলেন, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছে। এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে অভিযান—আর সেই জমির দখল কার হাতে যাবে, তা নিয়েই রাজনৈতিক দলের দুই পক্ষের প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষার অভিযানকে কেন্দ্র করে যদি দখলের নতুন প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, তাহলে উচ্ছেদের পর ওই জমির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাচ্ছে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।









Discussion about this post