বুলবুল হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ, তীব্র যানজটে ভোগান্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ :
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা বুলবুল আহমেদ হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।
আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে মদনপুর এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ শুরু করেন।
এতে চিটাগাংরোড থেকে সোনারগাঁ পর্যন্ত মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কে টায়ার, বাঁশ ও কাঠে আগুন জ্বালিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম শেখ জানান, প্রায় দেড় ঘণ্টা অবরোধের পর বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক থেকে সরে যান।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানজট তৈরি হয়। পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে বন্দরের সালেহনগর এলাকায় হামলার শিকার হয়ে নিহত হন বুলবুল আহমেদ (৩৫)।
তিনি শাহী মসজিদ এলাকার রাজা মাস্টারের ছেলে এবং বন্দর থানার পশ্চিম শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মুফতি মাছুম বিল্লাহর দাবি, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বুলবুলের গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তিনি মামলা করেন।
মামলায় স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের কথিত নেতা শেখ সিফাতসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
মাছুম বিল্লাহর অভিযোগ, ওই মামলা নিয়ে বুলবুলের সঙ্গে শেখ সিফাত ও তার সহযোগীদের বিরোধ চলছিল। এরই জেরে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলের ওপর হামলা চালানো হয়।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। তাদের হুঁশিয়ারি, অভিযুক্ত শেখ সিফাত ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার না করা হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।
এদিকে বুলবুল হত্যাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।









Discussion about this post