থানার কয়েক গজের মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রচারসামগ্রী তৈরির অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৪
নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার মাত্র কয়েক গজের মধ্যে একটি ছাপাখানায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের প্রচারসামগ্রী তৈরির অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অভিযানে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান সংবলিত ৭০টি কালো টি-শার্ট, ৪০টি লেমিনেটেড স্টিকার এবং আরও ১০টি স্টিকারবিহীন টি-শার্ট জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযান টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৬ থেকে ৭ জন পালিয়ে যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানাধীন ৫৫/২৭ এসএম মালেহ রোডের রিভারভিউ কমপ্লেক্সের আন্ডারগ্রাউন্ডে অবস্থিত একটি ছাপাখানায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—থানার এত কাছাকাছি একটি কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে এমন কার্যক্রম চললেও বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এল কীভাবে এত দেরিতে ?
যদিও পুলিশ বলছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে এসব প্রচারসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুর রহমানের নির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মো. রমজান হোসেন ও এসআই (নিঃ) মো. সেলিম মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই ছাপাখানায় অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নিতাইগঞ্জ এলাকার শিহাব আহম্মেদ আরাফাত (২৮), বি কে রোড এলাকার মো. জিহাদ হোসেন ওরফে আলিফ (১৯), দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার মো. সামির হোসেন খান (২৬) এবং হৃদম প্লাজার মো. রাকিবুল হাসান (৩২)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রাকিবুল হাসান ওই ছাপাখানার মালিক এবং সামির হোসেন সেখানে হিসাব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত আলোচনা, প্রচার-প্রচারণা এবং সংগঠনের সদস্য হওয়ার আহ্বানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছিলেন।
অভিযানের সময় ছাপাখানাটি থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগানযুক্ত ৭০টি কালো গোলগলা টি-শার্ট, তাঁর ছবি সংবলিত ৪০টি লেমিনেটেড স্টিকার এবং স্টিকারবিহীন আরও ১০টি কালো টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়। এসব সামগ্রী জব্দ তালিকার মাধ্যমে জব্দ করেছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও উদ্ধার করা আলামতের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের প্রচার-প্রচারণামূলক সামগ্রী প্রস্তুতের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ (সংশোধনী-২০১৩) এর ৮, ৯(৩), ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে।
এদিকে, থানার কাছাকাছি একটি ছাপাখানায় এমন কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে ওই ছাপাখানায় কতদিন ধরে এসব সামগ্রী তৈরি হচ্ছিল, কার নির্দেশে তৈরি করা হচ্ছিল এবং এসব সামগ্রী কোথায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ৬ থেকে ৭ জনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়েও তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সদর মডেল থানা পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাশকতা, সহিংসতা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের কার্যক্রমে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








Discussion about this post