‘হারপিক নিয়ে আসেন, আমিই টয়লেট ক্লিন করব’: কুমিল্লা হাসপাতালে অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ কৃষিমন্ত্রী
কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শৌচাগার ও সার্বিক পরিবেশের অপরিচ্ছন্নতা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের বিভিন্ন শৌচাগার বন্ধ, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নষ্ট বৈদ্যুতিক পাখা দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে নিজেই শৌচাগার পরিষ্কার করার কথাও বলেন তিনি।
এ ঘটনার একটি ভিডিও বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে রোগীদের সেবা কার্যক্রম ও হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিও।
পরিদর্শনের সময় একটি শৌচাগারের অপরিচ্ছন্ন অবস্থা দেখে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শাহজাহানকে উদ্দেশ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘হারপিক নিয়ে আসেন, আমিই টয়লেট ক্লিন করব। যদি আমি পারি, তাহলে আপনার কাছে জানতে চাইব, আপনি কেন পারলেন না।’
হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে টাইলসের ওপর কালো দাগ ও ময়লা দেখে তিনি বলেন, ‘টাইলসের ওপর কালো দাগ থাকার কথা নয়। হারপিক ব্যবহার করলে এসব দাগ পরিষ্কার হয়ে যায়।’
শৌচাগারের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বাথরুমগুলোর জঘন্য অবস্থা। সব ফ্লোরে দেখব বাথরুম আছে ছয়টা, এর মধ্যে পাঁচটি বন্ধ। অন্তত বাথরুমটা তো আপনারা ঠিক রাখবেন।’
একপর্যায়ে তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে বলেন, ‘আই ওয়ান্ট ক্লিন রাইট নাউ।’
শুধু শৌচাগারের অপরিচ্ছন্নতাই নয়, হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে বৈদ্যুতিক পাখার নাজুক অবস্থাও মন্ত্রীর নজরে আসে। দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট থাকা পাখাগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে নির্দেশ দেন তিনি।
এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, শৌচাগারগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার কাজে ১১ জন সরকারি কর্মচারী এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত ৬৩ জন কর্মচারী কাজ করছেন। তারা হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে রয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক স্থাপনাগুলোতে পরিচ্ছন্নতা ও মৌলিক ব্যবস্থাপনার এমন চিত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রোগীদের স্বাভাবিক সেবা নিশ্চিত করতে শৌচাগার সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নষ্ট সরঞ্জাম দ্রুত মেরামতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।








Discussion about this post