গভীর রাতে গুলির শব্দ, রাস্তায় লাশ: আবারও প্রশ্নের মুখে নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা
নগর প্রতিনিধি, নারায়ণগঞ্জ :
নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে গভীর রাতে গুলিবিদ্ধ এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আবারও নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
হকার্স মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় তিন রাস্তার মোড়ে প্রকাশ্য রাস্তায় একজনকে গুলি করে ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে হকার্স মার্কেট সংলগ্ন রাস্তার মাথায় খোকন সাহেবের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা তিন রাস্তার মোড়ে এক ব্যক্তিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার এসআই মো. কাজল মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত ব্যক্তির নাম শুভ দাস। প্রথমে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। তিনি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ থানার মতলব বাজার এলাকার হরি চন্দ্র দাসের ছেলে। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের গলাচিপা এলাকায় বিশার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছিলেন।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের (ভিক্টোরিয়া) মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গভীর রাতে একজনকে গুলি করে হত্যার পর দুর্বৃত্তরা কীভাবে নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেল? হত্যাকারীরা কারা, কী উদ্দেশ্যে এবং কতজন এই ঘটনায় জড়িত—এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর এখনো দিতে পারেনি পুলিশ। এমনকি হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
শহরে একের পর এক হত্যা, অস্ত্রের ব্যবহার, মাদক কারবার, ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা বাড়ছে। জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্য রাস্তায় গুলিবিদ্ধ মরদেহ পড়ে থাকার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।
পুলিশের টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও অপরাধীদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা কতটা রয়েছে—এখন সেই প্রশ্নই সামনে এসেছে।
নগরবাসীর দাবি, শুধু মরদেহ উদ্ধার করে তদন্তের আশ্বাস দিলেই চলবে না। দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর অভিযান চালাতে হবে। অন্যথায় অপরাধীদের বেপরোয়া তৎপরতা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত এবং কী কারণে শুভ দাসকে হত্যা করা হয়েছে, তা উদ্ঘাটনে কাজ চলছে।








Discussion about this post