সদর থানায় এসআই রমজানের বিরুদ্ধে মামলা-বাণিজ্যের অভিযোগ
নগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রমজান হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া, গ্রেপ্তার এড়াতে সহায়তা এবং নিরীহ ব্যক্তিদের হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় সাধারণ মানুষকে আটক করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে মাদক বা নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হয়।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে এসআই রমজান হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের বিভিন্ন টিমও অংশ নিচ্ছে।
সাম্প্রতিক একটি অভিযানের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট সদর মডেল থানাধীন এসএম মালেহ রোডের একটি ছাপাখানায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করে পুলিশ। ওই অভিযানে এসআই রমজান হোসেন ও এসআই সেলিম মিয়া নেতৃত্ব দেন বলে পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘আটক করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার’ অভিযোগ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, এসআই রমজান হোসেনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য অনেক সময় সাদা পোশাকে মোটরসাইকেল নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সন্দেহের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, কেউ টাকা দিতে না পারলে তাকে থানায় নিয়ে মাদক সেবন, নাশকতা কিংবা অন্য কোনো মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হয়। আবার বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার এড়ানো, আসামির নাম বাদ দেওয়া কিংবা মামলার তদন্তে সুবিধা করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন তারা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এসআই রমজানের কয়েকজন কথিত সোর্স বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে নিরীহ মানুষকে পুলিশি হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বদলি হলেও সদর থানায় থাকার অভিযোগ
একজন পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, এসআই রমজান হোসেন প্রায় দুই বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তার অন্য থানায় বদলি হয়েছে বলেও ওই কর্মকর্তা দাবি করেন। তবে তিনি সদর থানায় দায়িত্ব চালিয়ে যেতে আগ্রহী।
ওই কর্মকর্তার আরও দাবি, সদর থানার ওসির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে বদলি কার্যকর হওয়ার পরও তাকে সদর থানায় রাখার বিষয়ে আগ্রহ দেখানো হচ্ছে। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে মো. সাজেদুর রহমানের নাম জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছে।
অভিযোগ তদন্তের দাবি
স্থানীয়দের ভাষ্য, অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান যেমন প্রয়োজন, তেমনি অভিযানের নামে কোনো নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের দাবি, কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ, মামলা-বাণিজ্য বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীরা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে এসআই রমজান হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এসব অভিযানের পাশাপাশি আটক, গ্রেপ্তার ও মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।









Discussion about this post