‘অটো রাসেল’ থেকে চাকরিচ্যুত—নারায়ণগঞ্জের সাবেক এসপি গোলাম মোস্তফা রাসেল
নিজস্ব প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে অটোরিকশা ও ইজিবাইক ঘিরে নানা অভিযোগে আলোচিত-সমালোচিত সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল ওরফে অটো রাসেল কে এবার সরকারি চাকরি থেকেই বরখাস্ত হয়েছেন।
অসদাচরণ ও অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তার বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালনের সময় অটোরিকশা ও ইজিবাইক সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড ঘিরে স্থানীয়দের কাছে ‘অটো রাসেল’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন গোলাম মোস্তফা রাসেল—এমন দাবি বিভিন্ন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষ করে শহরে ইজিবাইকের চলাচল, নিয়ন্ত্রণ এবং অটোরিকশা ঘিরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তার বিরুদ্ধে তখন নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়। স্থানীয় একটি প্রতিবেদনে তাকে ‘অটো রাসেল’ হিসেবে উল্লেখ করে অটোরিকশা বিস্তারের সঙ্গে তার ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
এমনকি অটোরিকশা থেকে নিয়মিত টাকা আদায়ের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহলে আলোচিত ছিল। অভিযোগ ছিল, ট্রাফিক পুলিশের এডমিন আবদুল করিমের মাধ্যমে প্রতিটি অটোরিকশা থেকেবাধ্যতামূলক ১৫০০ টাকার নির্ধারিত হারে চাঁ দা আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, তার চাকরিচ্যুতির মূল কারণ হিসেবে সরকারি প্রজ্ঞাপনে উঠে এসেছে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও অসদাচরণ। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকা গোলাম মোস্তফা রাসেল ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ থেকে বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাকে হোয়াটসঅ্যাপ, ডাক ও ই-মেইলের মাধ্যমে নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি এবং কর্মস্থলেও যোগ দেননি।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নম্বর ০২৫/২০২৫ দায়ের করা হয়। বিভাগীয় তদন্তে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। পরে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শ নেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাকে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। বরখাস্তের সিদ্ধান্ত ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের জুনে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে গোলাম মোস্তফা রাসেলসহ পুলিশের একাধিক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। সরকারি গেজেটেও গোলাম মোস্তফা রাসেলের ২০২৫ সালের শুরু থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল।
চাকরিচ্যুতির পাশাপাশি গোলাম মোস্তফা রাসেল ওরফে অটো রাসেলের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে একাধিক মামলা তদন্তাধীন থাকার তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এর মধ্যে ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে যুবদলকর্মী শাওন আহমেদ নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে বলে প্রথম আলো জানিয়েছে। মামলায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের বিষয়টি বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ; অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত এখনো বলা যায় না।
২০২২ সালের আগস্টে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া গোলাম মোস্তফা রাসেল ২০২৪ সালের আগস্টে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে বদলি হন। পরবর্তী সময়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং বিভাগীয় মামলার কারণে তিনি সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া ‘অটো রাসেল’ পরিচয় এবং অটোরিকশা-ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত অভিযোগ, রাজনৈতিক বিতর্ক ও সরকারি বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগ—এই তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্তে যে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে, চাকরিচ্যুতির ভিত্তি মূলত সেগুলোই।









Discussion about this post