স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধদের আর্তনাদ থামছে না।
একে একে নিভে যাচ্ছে প্রাণ, বাড়ছে স্বজনদের আহাজারি।
সর্বশেষ, কাওসার (৩০) নামে আরও এক যুবকের মৃত্যু সেই শোকের মিছিলকে আরও দীর্ঘ করেছে।
সোমবার (১৮ মে) ভোরে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কাওসার। তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল—যে ক্ষত আর সইতে পারেনি তার শরীর।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাওসারের মৃত্যুতে এই বিস্ফোরণে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিনজনে।
এর আগে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শঙ্কর (২৫) ও আমির (২৫)। প্রত্যেকটি মৃত্যুই যেন একই গল্প বলে—হঠাৎ এক বিস্ফোরণ, মুহূর্তে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া স্বপ্ন, আর পুড়ে যাওয়া ভবিষ্যৎ।
ঘটনার দিন ক্যান্টিনে থাকা ১২ জন কর্মী দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে ছয়জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরতে পারলেও বাকি ছয়জনের অবস্থা ছিল গুরুতর। সেই ছয়জনের মধ্যেই এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
এখনও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন আরও চারজন, যাদের অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ কাটছে না।
স্বজনদের কান্না আর সহকর্মীদের নিস্তব্ধতা—সব মিলিয়ে এক শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। যে ক্যান্টিনে প্রতিদিনের হাসি-আড্ডা ছিল, আজ সেখানে শুধু ভয়াবহ সেই বিস্ফোরণের স্মৃতি আর না ফেরার দেশে চলে যাওয়া মানুষগুলোর অনুপস্থিতি।
এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু কয়েকটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, ভেঙে দিয়েছে বহু পরিবারের স্বপ্ন ও ভরসার জায়গা। এখন প্রশ্ন উঠছে—কেন ঘটলো এই বিস্ফোরণ, আর কতটা নিরাপদ আমাদের কর্মক্ষেত্র ?
যতদিন না এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলছে, ততদিন মেঘনাঘাটের এই আগুনের দাগ রয়ে যাবে মানুষের মনে—একটি অমোচনীয় বেদনার স্মারক হয়ে।









Discussion about this post