নারায়ণগঞ্জে ভয়ংকর প্রতারণা চক্রের হোতা গ্রেফতার: ‘নিখোঁজ নাটক’ সাজিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া
স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ :
নারায়ণগঞ্জকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক ভয়ংকর প্রতারণা চক্রের মূল হোতা মো. কামরুল আহসান পাভেল (৩৬) অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন।
বিদেশে গিয়ে আত্মগোপন, দেশে তাকে ‘নিখোঁজ’ দেখিয়ে মামলা এবং সেই মামলার ভয় দেখিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই চক্রের মূল কৌশল।
র্যাব জানায়, রোববার (১৪ জুন) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৩ ও র্যাব-১১-এর যৌথ অভিযানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার শিমরাইল এলাকার চট্টগ্রাম রোড থেকে পাভেলকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতারণা মামলার এক নম্বর আসামি। এর আগে তার বিরুদ্ধে পল্টন থানায় মানবপাচার, নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগও রয়েছে।
‘নিখোঁজ’ নাটকেই প্রতারণার ফাঁদ
তদন্তে জানা যায়, পাভেলকে ২০২২ সালের ১১ এপ্রিল ‘ক্রিয়েটিভ ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। এরপর তার স্ত্রী পলি আক্তার লিজা তাকে ‘নিখোঁজ’ দেখিয়ে অপহরণ ও মানবপাচারের মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, পাভেলকে আটকে রেখে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।
পরে মামলা নিষ্পত্তির নামে পলি আক্তার ওই এজেন্সির কাছ থেকে প্রথমে ১০ লাখ টাকা আদায় করেন। টাকা পাওয়ার পর তি আদালতে জানান, ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলা করেছিলেন এবং তার স্বামী সৌদি আরবেই অবস্থান করছেন।
একই কৌশলে পুনরায় প্রতারণা
ঘটনার তিন বছর পর ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট একই ধরনের আরেকটি অভিযোগ ওঠে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সোনিয়া আক্তার নামের এক নারী একই এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রায় হুবহু একই অভিযোগ এনে মামলা করতে যান।
তার অভিযোগেও ‘স্বামীকে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি’র বিষয়টি উঠে আসে।
পুলিশের সন্দেহ হলে বিষয়টি তদন্তে যায়।
ডিবি পুলিশের অনুসন্ধানে পলি ও সোনিয়ার মধ্যে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়।
কল রেকর্ড বিশ্লেষণে নিশ্চিত হওয়া যায়—দুটি ঘটনাই ছিল পরিকল্পিত প্রতারণা।
নারায়ণগঞ্জভিত্তিক সংগঠিত সিন্ডিকেট
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, নারায়ণগঞ্জকে কেন্দ্র করে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিল।
পলি আক্তার ও সোনিয়াকে সামনে রেখে বিদেশে থাকা ব্যক্তিদের ‘নিখোঁজ’ দেখিয়ে মামলা করা হতো। এরপর মামলা তুলে নেওয়ার শর্তে রিক্রুটিং এজেন্সির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হতো।
পলাতক সদস্যরা বিদেশে
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত পলি আক্তার লিজা ইতোমধ্যেই বিদেশে পালিয়ে গেছেন। চক্রটির অন্যান্য সদস্যরাও বিভিন্ন দেশে আত্মগোপনে রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কবার্তা
র্যাব জানিয়েছে, মানবপাচারের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুকে ব্যবহার করে প্রতারণার এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা বলছেন, নারায়ণগঞ্জে এ ধরনের প্রতারণা চক্রের বিস্তার রোধে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের ফাঁদে না পড়ে।









Discussion about this post