উপস্থিতি নিশ্চিত করতে জিও-ফেন্সিং, রিয়েল-টাইম মনিটরিং; পাইলট প্রকল্প শুরু শিগগিরই
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
ভূমি অফিসে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিতি ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ঠেকাতে এবার প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
এই উদ্যোগের আওতায় প্রথম ধাপে নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকা ও গাজীপুর জেলায় পরীক্ষামূলক (পাইলট) প্রকল্প চালু করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল অ্যাপভিত্তিক এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
জিও-লোকেশন ও জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা কর্মস্থলে আছেন কি না, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন কি না এবং অফিস চলাকালে কোথায় অবস্থান করছেন—এসব তথ্য সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে সংরক্ষিত থাকবে।
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ভোগান্তির অভিযোগ করে আসছেন সাধারণ মানুষ।
নামজারি, খাজনা পরিশোধ, খতিয়ান উত্তোলন কিংবা রেকর্ড সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা নিতে গিয়ে বহুবার অফিসে গিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না পাওয়া, কাজ ফেলে রাখা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের মতো অভিযোগ প্রায় নিয়মিত।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন এই ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্মার্টফোনে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।
এই অ্যাপের মাধ্যমে তাদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং একটি ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। ফলে কোন কর্মকর্তা কখন অফিসে উপস্থিত হয়েছেন, মাঠে গেছেন কিংবা কতক্ষণ অনুপস্থিত ছিলেন—সবকিছুই নজরদারির আওতায় থাকবে।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে ভূমি সংক্রান্ত সেবার চাপ বেশি হওয়ায় এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক সময় কর্মকর্তারা মাঠে দায়িত্ব পালনের কথা বললেও বাস্তবে তাদের অবস্থান যাচাইয়ের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনিয়মের সুযোগ থেকে যায়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটালাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পারফরম্যান্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগ সূত্র জানায়, সফটওয়্যার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে এবং অ্যাপ চালুর আগে একটি বিস্তারিত ইউজার ম্যানুয়াল তৈরি করা হবে। এতে ব্যবহার পদ্ধতি, তথ্য সংরক্ষণ, মনিটরিংয়ের সীমা এবং জবাবদিহির বিষয়গুলো উল্লেখ থাকবে।
জুলাই-আগস্টের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জে এই পাইলট কার্যক্রম চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিসে এটি বাস্তবায়ন করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই নজরদারি ব্যবস্থা চালু হলে ভূমি অফিসে অনিয়ম, ফাঁকিবাজি ও হয়রানি অনেকাংশে কমবে এবং সেবার মান বাড়বে।
একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে জবাবদিহি ও দায়িত্ববোধও বৃদ্ধি পাবে।









Discussion about this post