নারায়ণগঞ্জে ‘মৌমিতা পরিবহন’ বন্ধ: চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএনপি নেতাকে ঘিরে বিতর্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছেন ‘মৌমিতা পরিবহন’-এর এক পরিচালক।
অভিযোগের জেরে পরিবহনটির বাস চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খানপুর-চন্দ্রা রুটের হাজারো যাত্রী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, খানপুর থেকে গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত চলাচলকারী ‘মৌমিতা পরিবহন’ থেকে গত দুই বছর ধরে প্রতি মাসে ৯০ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন নারায়ণগঞ্জ অংশের পরিচালক রফিজুল ইসলাম ওরফে কালা।
তবে গত তিন মাস চাঁদা দেওয়া বন্ধ থাকায় বাস চলাচলে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শনিবার (২০ জুন) বেলা ১১টার পর শহরের চাষাঢ়া মিশনপাড়া এলাকায় ‘মৌমিতা পরিবহন’-এর কয়েকটি বাস থামিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব টিপুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজন নেতা-কর্মী বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বাস চলাচলে বাধা দেন এবং চালকদের ভয়ভীতি দেখান। এমনকি বাস চললে ভাঙচুরের হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় পরিবহনটির শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় তাদের মারধর করা হয়েছে এবং নিয়মিতভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তারা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিরাপদে গাড়ি চালানোর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তবে গণমাধ্যমের কাছে দেয়া এক মন্তব্যে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু।
তিনি বলেন, “মৌমিতা পরিবহনের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। অবৈধভাবে গাড়ি চালানো হচ্ছে। আমি কোনো ধরনের চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নই।”
তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, একটি চক্র মালিক সমিতির নামে বিভিন্ন স্থানে টাকা উত্তোলন করছে।
এদিকে পরিবহনটির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আমিনুল ইসলাম দৈনিক চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও নির্দিষ্ট কারো নাম উল্লেখ করেননি।
তিনি বলেন, “প্রতিদিন সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়—এটা সত্য। তবে কে নেয়, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন।”
অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সদস্য শাহেদ আহম্মেদও এ ঘটনায় টিপুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট অংকের টাকা নেওয়ার পর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বিকেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলে সন্ধ্যার পর পুনরায় বাস চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘিরে নারায়ণগঞ্জের পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা দ্রুত তদন্ত ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।









Discussion about this post