হাসিমুখে ডেকে নিয়ে নির্মম হত্যা: ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেবের লাশ উদ্ধার, টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার :
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের সম্পর্ককে পুঁজি করে এক বিকাশ ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে হাসিমুখে ডেকে নিয়ে বাসায় এনে মোতালেব মিয়া (৬৫) নামে ওই ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
পরে লাশ গোপন করতে তা তোশকে প্যাঁচিয়ে সড়কের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ফতুল্লার মাসদাইর এলাকায় এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক গ্যারেজ মহাজন ও ইজিবাইক চালককে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মোতালেব মিয়া লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার শিবপুর গ্রামের মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে। তিনি পরিবারসহ ফতুল্লার মাসদাইর কবরস্থান এলাকায় একটি বহুতল ভবনের ছয়তলায় বসবাস করতেন।
স্থানীয় বাজারে বই ও বিকাশের ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।
পরিবারের অভিযোগ, একই ব্যবসার সূত্র ধরে জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে মোতালেবের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন হয়, যেখানে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা জাকিরের কাছে পাওনা ছিল মোতালেবের। সেই টাকা আত্মসাৎ করতেই পরিকল্পিতভাবে তাকে বাসায় ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার পরপরই লাশ গুমের চেষ্টা করা হয়।
গভীর রাতে একটি গ্যারেজ থেকে ইজিবাইক বের করা নিয়ে ভোরে গ্যারেজ মালিক ও চালকের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়, যা এলাকাবাসীর নজরে আসে। পরে সড়কের পাশে তোশকে মোড়ানো লাশ উদ্ধার হলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
ক্ষুব্ধ জনতা ওই গ্যারেজ মহাজন ও চালককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
আটক ইজিবাইক চালক পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, জাকির হোসেন তাকে গভীর রাতে ডেকে তোশক সরানোর কথা বলেন। তোশকে পোকা ধরেছে বলে সেটি ফেলে দিতে হবে—এমন অজুহাত দিয়ে তাকে রাজি করানো হয়।
শুরুতে অস্বীকৃতি জানালেও পাঁচ হাজার টাকার লোভ দেখালে তিনি রাজি হন এবং নির্দিষ্ট স্থান থেকে তোশকটি নিয়ে সড়কের পাশে ফেলে দেন।
ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে—জাকির হোসেন হাসিমুখে মোতালেবের কাঁধে হাত রেখে তাকে বাসার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরে একই বাসা থেকে তোশক বের করে ইজিবাইকে তোলার দৃশ্যও ধরা পড়ে। এছাড়া জাকিরের বাড়ির পেছন থেকে নিহতের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও একটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর জাকির হোসেন সপরিবারে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাকিরকে আটক করা গেলে হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণ বিবরণ স্পষ্ট হবে।
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডে এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিচিতজনের হাতেই এমন নৃশংস হত্যার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।









Discussion about this post