বন্দরে নিখোঁজ অটোরিকশা চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
মহানগর প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে নিখোঁজের ছয় দিন পর অটোরিকশা চালক মাছুম রানা (৩৫)-এর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে মদনগঞ্জ-মদনপুর মহাসড়কের পাশে ঢাকেশ্বরী রোড সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি মাছুম রানার বলে শনাক্ত করেন। তিনি উপজেলার সোনাচরা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী সুমা আক্তারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই মাছুম রানা নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
তার দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে অপহরণ করা হয় এবং পরে কুপিয়ে হত্যা করে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ডোবায় ফেলে রাখা হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মরদেহে গলা, হাত ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং এটি কয়েকদিন আগের। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রকাশ্যে অপহরণ, নির্মম হত্যা এবং মরদেহ গুমের চেষ্টা—এসব বিষয় এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অপরাধীদের দুঃসাহসিকতার দিকটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, একটি মানুষকে দিনের আলোতে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি কোথায় ছিল ?
এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার, অপরাধীদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।
অন্যথায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য আরও বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নিহতের পরিবার দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয়দেরও একই দাবি—এই হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস ঘটনা আর না ঘটে।









Discussion about this post