বন্দরে রাজনৈতিক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, অভিযোগ সিফাত বাহিনীর বিরুদ্ধে
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ:
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মুজাহিদুল ইসলাম বুলবুল (৪০) নামে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সালেহনগর এলাকায় সিকদার মালেক সাহেবের বাড়ির সামনের পাকা সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বুলবুল ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ, বন্দর থানা শাখার আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তিনি শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ি এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকায় একা অবস্থানকালে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি বুলবুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার সঙ্গে শেখ সিফাতের নেতৃত্বাধীন একটি গ্রুপের সদস্যরা জড়িত। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
নিহত বুলবুল ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট দায়ের করা একটি বৈষম্যবিরোধী মামলার (মামলা নং-১৪) প্রধান বাদী ছিলেন। ওই মামলায় শেখ সিফাতকে ৬ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, মামলা প্রত্যাহার না করা এবং পূর্ববিরোধের জের ধরে বুলবুলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একটি অংশ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় অবস্থান নেয়। বিক্ষুব্ধ কয়েকজন শেখ সিফাতের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে হামলা চালানোর পাশাপাশি সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শেখ সিফাতের নেতৃত্বাধীন গ্রুপটি দীর্ঘদিন ধরে শাহী মসজিদ ও বউবাজার এলাকায় ছিনতাই, ডাকাতি ও সশস্ত্র হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় নতুন করে সংঘাত ও রক্তপাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।









Discussion about this post